ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। শনিবার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিটি রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়, মোট ১৫ জন প্রার্থীকে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, আর ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রাজশাহী-১ আসনে থেকে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ ও সুলতানা ইসলাম তারেকের বিরুদ্ধে ভোটার সমর্থনে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আল সাআদ সমর্থনকারী ১০ জনের মধ্যে দুজন মৃত ভোটার এবং চারজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সুলতানা ইসলামের নথিতে স্বাক্ষর ও ভোটার সমর্থনে গরমিল ধরা পড়ে। পাশাপাশি, গণঅধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের মনোনয়নপত্রেও দলীয় সভাপতি নূরের স্বাক্ষর না থাকায় তার আবেদন বাতিল হয়। এই আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন, এবি পার্টির আব্দুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুজিবুর রহমান বৈধ হিসেবে মনোনীত হন।
অন্যদিকে, রাজশাহী-২ আসনের নয় জন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে হীলিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু অন্যতম। তবে, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ওয়াহিদুজ্জামান এবং সালেহ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, আয়-ব্যায়ের স্বচ্ছতার অভাব, মৃত ভোটারের সমর্থন ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াহিদুজ্জামান ব্যাংকের ঋণখেলাপি থাকায় এবং সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকার কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এই আসনের অন্যান্য বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামীর ডা. জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম, নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম প্রমুখ।
জেলা রিটার্নিং অফিসের সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আইনি মাধ্যমে আপিলের সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে সমর্থনকারী ভোটার না থাকা, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর, আর্থিক অস্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলো এবারের যাচাই-বাছাইয়ে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করে নিজের প্রার্থীতা ফিরে পেতে পারবেন। বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন ও স্থানীয় দলগুলোর প্রার্থীদের বৈধতা পাওয়ায় নির্বাচনী লড়াই আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। পুরো এলাকা এখন নির্বাচনী আবেগে উচ্ছসিত এবং প্রার্থী들 পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন।