123 Main Street, New York, NY 10001

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি। এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ছিল সবচেয়ে বিপর্যস্ত। অন্য দেশের বাজারগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের সূচকগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে বিএসই সেনসেক্স সূচক এই বছর ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে পৌঁছলেও, বাংলাদেশের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে, যা আগের বছর শেষে ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট। এ মানে, সূচকের পতন হলেও, বাংলাদেশের মোট বাজারমূলধন ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা হয়েছে। তবে লেনদেনের পরিস্থিতি হয়েছে নেতিবাচক। ২০২৪ সালে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, অর্থাৎ এক বছরে লেনদেন ১৫.৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগকারী প্রত্যাশা করেছিলেন যে, অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে এবং পুঁজিবাজারে আস্থা আবার ফিরবে। কিন্তু কিছু অপ্রিয় ঘটনার মধ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের ঘোষণা থাকলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারী নির্দেশনা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। এই সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার কারণে সংস্কার উদ্যোগ সফলতা পায়নি। মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল মূল সংস্কার কার্যক্রম। ২০২৫ সালে কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যেমন পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়, কারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থের বিষয়ে যথাযথ বিবেচনা হয়নি। আরও আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, এই প্রত্যাশা এবং আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর পূর্বের মতোই বছরখানেক বিনিয়োগকারীরা হতাশায় নিমজ্জিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *