123 Main Street, New York, NY 10001

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অকাল মৃত্যুতে তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জানাজার আগে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে তিনটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের নির্ধারিত জানাজা মঞ্চ থেকে তিনি একটি লিখিত বক্তৃতা প্রদান করেন। এই আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বেগম জিয়ার জীবনযাত্রা, পারিবারিক পটভূমি ও রাজনৈতিক জীবনের দিগন্ত উন্মোচন করেন। বিশেষ করে গণতন্ত্রের জন্য তার অসাধারণ সংগ্রাম, দেশপ্রেম ও ত্যাগের গল্প তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বেগম জিয়া শেখ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত থেকে যখন তিনি দেশের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়ার সংগ্রাম ছিল অবিনাশী, তার ত্যাগের কাহিনী আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। এরই মধ্যে, বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে দক্ষিণের জানাজা শেষ করে তার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। ভোর থেকে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করে শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীর দেখা দেখতে। মানুষের আবেগে অশ্রুসজল চোখে চোখে আলিঙ্গন, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন হয়। আজকের জানাজা শেষে তাকে শেরেবাংলা নগরের জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। বৃহস্পতিবারের মনোয়াজের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে দুপুরে মরদেহ প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে, বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বরেণ্য নেত্রীর মরদেহ গুলশানে তারেক রহমানের বাড়িতে নেওয়া হয়, যেখানে পরিবারের সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৭ দিন লিভার সিরোসিসসহ নানা শারীরিক জটিলতার কারণে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি গতকাল মঙ্গলবার ভোরে না ফেরার দেশে চলে যান। ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার মৃত্যুতে দেশব্যাপী শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজার পূর্ব মুহূর্তে নজরুল ইসলাম খানের এই স্মৃতিচারণ জনসমুদ্রের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *