123 Main Street, New York, NY 10001

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যদি পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে সম্মান করে এবং দেশের নিরাপত্তা স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, তবে আর কোনও যুদ্ধ হবে না। তিনি এ মন্তব্য করেছেন দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সাড়ে চার ঘণ্টার সরাসরি অনুষ্ঠানে, যা নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডিরেক্ট লাইন’। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর যদি পশ্চিমারা রাশিয়াকে সম্মান করে এবং তার স্বার্থগুলো শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করে, তাহলে ভবিষ্যতে আবার কোনও সংঘর্ষের প্রয়োজন হবে না। পুতিন বলেন, ‘‘যদি আপনি আমাদের সম্মান করেন, তাহলে আর কোনও অভিযান বা যুদ্ধের দরকার হবে না। যেমনটা আমরা আপনাদের সম্মান করার চেষ্টা করছি, তেমনি আপনি যদি আমাদের সম্মান করেন, তবে আমি বিশ্বাস করি, শান্তিপূর্ণ পথেই এগোতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের শেষ প্রত্যাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি শান্তিপূর্ণভাবে এই সংঘর্ষ শেষ করতে প্রস্তুত। তবে কড়া শর্ত রয়েছে—যদি ন্যাটোর নেতা-প্রসারণ রুখে দেয় এবং ইউক্রেনকে ন্যাটো থেকে আলাদা করে, তাহলে যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ হবে।’ পুতিন আবারও স্পষ্ট করেন, রাশিয়া ইউরোপে নতুন করে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে না, তবে প্রস্তুত আছে মোকাবেলার। তিনি বলেন, ‘‘যদি যুদ্ধ বাধে, আমরা লড়াইয়ে থাকব। তবে যদি ইউরোপ আমাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করে ও প্রতারণা না করে, তবে যুদ্ধের POSSIBILITY নেই।’’’ ইউক্রেনের বিষয়ে পুতিন জানান, তিনি ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ যুদ্ধের সমাপ্তি চান, কিন্তু কোনো আপসের ইঙ্গিত দেননি। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং দখল করা চারটি অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা সরিয়ে নেওয়া জরুরি। রুশ প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য, দনবাসসহ দেশের আংশিক দখলকৃত এলাকাগুলো সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা ও ইউক্রেনের সেনাদের প্রত্যাহার। অর্থনৈতিক দিকেও পুতিন স্বীকার করেন, মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির হ্রাস ও ভ্যাট বাড়ানোর মতো সমস্যা রয়েছে। এরপর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমিয়ে তা ১৬ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে বিদেশনীতি ও অর্থনীতির বিষয় ছাড়াও মাতৃভূমি, প্রাচীন সেনাদের সম্মান ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। পুতিন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ইউক্রেনের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপের সঙ্গে ‘সম্মান ও সমান মর্যাদার ভিত্তিতে’ কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ন্যাটোর ওপর হামলার বিষয়েও তিনি সংশয় দেখিয়ে বলেন, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন আশঙ্কার কথা ‘অবাস্তব’। তিনি আবারো স্পষ্ট করেন—প্রশ্নে ওঠে আসা যে, রাশিয়া ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে পারে, সেটি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *