123 Main Street, New York, NY 10001

গাজা অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিখ্যাত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। তবে এই স্বস্তির পিছনে আশঙ্কার ঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে, কারণ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে।

সংস্থাটির তথায, যুদ্ধবিরতির পর মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পায়, যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটিয়েছে। তবে আইপিসি সতর্ক করে বলেছে, দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি আপাতত এড়ানো গেলেও, গাজার পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। বিশেষ করে যদি আবার সংঘর্ষ শুরু হয় এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পৌঁছে আবারও দুর্ভিক্ষের ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

প্রায় চার মাস আগে, সংস্থাটি জানিয়েছিল যে, গাজা অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ, দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। তখন এই মূল্যায়ন ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছিল।

রাজনৈতিক বিবাদের মাঝে, গাজায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার খবর আসলেও, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরিস্থিতির উন্নতি খুবই অনিশ্চিত। তিনি বলেছেন, বর্তমানে অনেক মানুষ ন্যূনতম খাদ্যও পাচ্ছে না, প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহও আসছে না।

অন্যদিকে, ইসরায়েল শুরু থেকেই এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইসরায়েলের সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা কোগাট দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গাজায় প্রায় ৬۰۰ থেকে ৮০০ ট্রাক খাদ্য ও অন্যান্য essentials প্রবেশ করছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই হচ্ছে খাদ্যপণ্য। তবে হামাস এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, প্রতিদিন এত ট্রাক গাজায় প্রবেশ করে না এবং সহায়তার পরিমাণ আরও কম। কোগাটের অভিযোগ, সংস্থাটি তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বহীন ভুল ফলাফল দেখাচ্ছে এবং এমন তথ্য দিচ্ছে যা বাস্তব চিত্রের সঙ্গে মিলছে না।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সত্যিকার পরিস্থিতি মোটেও এমন নয়, বরং অনেক বেশি খাদ্য সহায়তা গাজায় প্রবেশ করছে। তারা আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ের পর থেকে গাজায় খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্বের আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর আবারও অভিযোগ, গাজার মতো ছোট ও জনবহুল এলাকা যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা কম ঢুকছে। তারা বলছে, ইসরায়েল অনেক সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, খাদ্যের অভাব নেই, সমস্যা মূলত খাদ্য বিতরণে অকার্যকরতা।

এদিকে, জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির কারণে গাজায় খাদ্য সরবরাহ ও পুষ্টির হার উন্নতি হলেও, পরিস্থিতির সব দিক এখনও খুবই অস্বস্তিকর। গত মাসে, সেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ অতি বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে ছিল। আগস্টে দেখা গেছে, গাজা পরিস্থিতি দুর্বার হয়ে উঠেছে এবং এখনও প্রায় ৫ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে সংকটে রয়েছে। এছাড়া এক লাখের বেশি মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তবে তারা ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছে। তবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় যে, গাজার কোনো এলাকাই এখন দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে নয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রাশিয়ায় নিয়োজিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত আবদেল হাফিজ নোফাল জানান, যুদ্ধের পরও ইসরায়েল এই সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে এবং অনুমান করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত দ্বিগুণসংখ্যক আহত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, বেশিরভাগ ঘটনা ইসরায়েলের ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও মানবিক সাহায্য প্রবেশের সীমিত অনুমতি দেয়ার কারণেই এমন হচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। অগাস্টে আবারো যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইসরায়েল গাজায় নতুন করে সহায়তা বিতরণ শুরু করে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়, বহু মানুষ খাদ্য সহায়ক কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া অবস্থায় নিহত হয়। অতিরিক্ত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহু ও তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা গাজার পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আদালতের নজরে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *