123 Main Street, New York, NY 10001

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির বিশেষ একটি আদালত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ঐতিহাসিক এক রায় ঘোষণা করে তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে করে ১৭ বছরের দণ্ডাদেশ। এই রায় আসে তোষাখানার দ্বিতীয় মামলায়, যা মূলত একটি বিলাসবহুল গহনা সেটের বিপর্যয়মূলক কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত। ২০২১ সালে সৌদি আরবের একজন রাজপুত্রের উপহার হিসেবে দেওয়া এই দামি গহনা সেটটি, যা স্বনামধন্য ইতালীয় ব্র্যান্ড বুলগারির দামী প্রসাধন, পাকিস্তানের সরকারি তোষাখানায় জমা থাকার কথা ছিল। তবে, ইমরান দম্পতি সেটটি অল্প দামে কিনে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই মামলার শুনানি চলাকালীন পাকিস্তানি আদালত দাবি করে, গহনার মূল্য প্রায় ৮ কোটি রুপি হলেও, ইমরান ও তার স্ত্রী সেটটি মাত্র ২৯ লাখ রুপি পরিশোধ করে রেখে দেন। আদালত এই রায় দেয়ার সময় জানায়, বয়স ও মহিলারূপের খেয়াল রেখে ইমরান ও বুশরা বিবির জন্য নম্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে শাস্তি কমানো হয়েছে। এই দণ্ড কার্যকর হলে তাদের আটকের মেয়াদ ও শাস্তি সম্পূর্ণ হবে। এই মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবি উভয়কেই ১৭ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। আদালত জানায়, এই রায় যতটা দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তার মাঝে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বিচারপ্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি রয়েছে বলে পিটিআই ও ইমরানের সমর্থকরা অভিযোগ করেছে। এর আগে, ইমরান খান ২০২৩ সালে একাধিক দুর্নীতির মামলায় সাজা ভোগ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতির মামলা ও আরও নানা অভিযোগ। এই রায় ঘোষণা হওয়ার পর, পিটিআই একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এই বিচার এটি শুধুই একটি রাজনৈতিক চরিত্রের একটি পাশবিক ও সামরিক ধরনের দণ্ড, যা সম্পূর্ণভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসাংবিধানিক। ইমরানের পরিবার সদস্যদের কারাগারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের চর্চাকে তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *