123 Main Street, New York, NY 10001

দিল্লির আশেপাশে বিষাক্ত বায়ুজনিত সমস্যা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। ভারত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দিল্লির ছয়টি সরকারি হাসপাতালে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই খবর প্রকাশ পেয়েছে অনলাইন বিবিসি।

বিশ্লেষকদের মতে, শীতকাল আসতেই দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। গত কয়েক সপ্তাহ থেকে দিল্লির বায়ু মান সূচক বা একিউআই (AQI) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের চেয়েও ২০ গুণ বেশি। বিশেষ করে, পিএম ২.৫ কণার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, যা সরাসরি মানুষের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে ফুসফুসে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

দূষণের বিভিন্ন কারণের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানা থেকে নিঃসরণ, যানবাহনের ধোঁয়া, শীতের সময় তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের গতি ধীর হয়ে পড়া এবং পাশের রাজ্যগুলোতে ধানখেতের খড় পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড। এসব কারণে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দিল্লির ছয়টি প্রধান হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের মোট মামলা ছিল প্রায় ৬৭,৫০০। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৯,২৯৩, আর ২০২৪ সালে এটি হয় ৬৮,৪১১। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেছে, তবে এটি এখনই সরাসরি প্রমাণ হিসাবে বলা যাচ্ছে না।

গত এক দশকে দিল্লির সাধারণ একিউআই বেশ কিছুবার ৪০০ এর ওপরে উঠেছে, যা ‘গুরুতর’ শ্রেণিতে পড়ে এবং সুস্থ মানুষদের জন্যও বেশ ক্ষতিকর। বুধবার সকালেও সরকারি ‘সফর’ অ্যাপের রিপোর্ট অনুসারে, দিল্লির গড় একিউআই ছিল প্রায় ৩৮০।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেষ সপ্তাহে দিল্লি এবং তার আশপাশের হাসপাতালে দূষিত বায়ুর কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুদের ভিড় বেড়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে এক পিটিশনের শুনানি বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, দেশটির সুপ্রিম কোর্টও দীর্ঘ দিন ধরে দিল্লির অবনতিশীল বায়ুমানের উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *