123 Main Street, New York, NY 10001

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার পরিবারের সদস্যরা ও দলের নেতাদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়া হলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী একটি জোট। তারা সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি তাদের ভুলপথে চলা অব্যাহত রাখে, তাহলে অবিলম্বে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হবে।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন অনুযায়ী, গত শুক্রবার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পাখতুনখোয়া মিল্লি আওয়ামি পার্টির (পিকেএমএপি) সভাপতি মাহমুদ আচাকজাই। তিনি বলেন, ‘আমরা সিন্ধি, বেলুচ, পশতুন ও পাঞ্জাবির রাস্তায় নামা ঠেকিয়ে রেখেছি, নাহলে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলত।’

আমাদের অভিযোগ, সরকার সংসদকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক বাইরের নির্দেশে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, উপজাতীয় এলাকার মানুষের ক্ষতিই গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

বিশেষ করে, ইমরান খানের কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাকে তার বোন ও দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে না দেওয়ায় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আচাকজাই মন্তব্য করেন, ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আদিয়ালা জেলের বাইরে বসে আছেন, কিন্তু ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন অধরাই রয়ে গিয়েছে।’

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার বলেন, ‘সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। হরিপুরের উপনির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে, যেখানে ওমর আইয়ুবের স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। ফলাফল ফর্ম ৪৭–এ ছিল, সেটা বদলে ফেলা হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।’

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার গওহর বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ হতে চায়। তবে, উপনির্বাচনে ‘কারচুপি’κρι্তার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমি যতটা জানি, ইমরান খান আর এই পার্লামেন্টের অংশ হতে চান না। সরকারের কাছে আমাদের অনুমতি চাওয়া হচ্ছে না।’

তার মতে, সরকার সংসদকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং স্পিকার আয়াজ সাদিক বাইরের নির্দেশ নিচ্ছেন। উপজাতীয় এলাকায় মানুষ নিহত হতেই থাকলেও, এই বিষয়ে কথা বলার জন্য বিরোধীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

অতীতে, ইমরান খানকে কারাগারে আটক রাখা এবং তাকে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গণতন্ত্রের একটুকরোও অবশিষ্ট রাখতে পারেনি সরকার।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধানের মৃত্যুসংক্রান্ত গুঞ্জন সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে, পাকিস্তান সরকার এবং পিটিআই নিজে এ তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে ইমরান খান আদিয়ালা কারাগারে আছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে।

মিরপুরের খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন, কিন্তু ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি, তার আইনজীবী, পরিবার ও চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এমনকি, সামাজিক মাধ্যমে #ইমরান_খান_কোথায় হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করে ওঠে। তবে, পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইমরানের স্বাস্থ্য ভালো এবং তার ছেলে কাসিম খান আন্তর্জাতিক community এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বাবার জীবনবৃত্তান্ত ও অবস্থা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানাসানাউল্লাহ বলেন, ‘ইমরান খান ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হচ্ছে, চিকিৎসা ও খাওয়ার ব্যাপারে সব দিক অনুসরণ করা হচ্ছে।’

আরেকদিকে, আলি জাফর জানিয়েছেন, ‘খবরে কোনো সত্যতা নেই। এখনই সরকারের উচিত আমাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া, তাহলেই সবাই নিশ্চিত হবে।’ পাশাপাশি, ওয়াকাস আকরাম উল্লেখ করেন, ভারত ও আফগানিস্তানের কিছু ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল, যা আমরা অস্বীকার করছি।

সর্বশেষ, পাকিস্তানের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইমরানের শারীরিক সমস্যা গুরুতর নয় এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। ছড়ানো গুজবগুলো শুধুই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য, দেশের ও দেশের বাইরে অনেকেই এই ভুল তথ্যের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *