123 Main Street, New York, NY 10001

সদ্য সমাপ্ত মে মাসে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী মাসে প্রবাসীরা দেশে

পাঠিয়েছেন মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক

আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের এই প্রবাসী আয়ের চিত্র প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স

প্রবাহ প্রায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ

ছিল ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর থেকে

টানা ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে তিন বিলিয়ন বা তিনশ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে

আসছে। এর আগে মার্চে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার এবং এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ

ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও এই প্রবাহ তিন বিলিয়ন

ডলারের ওপরে ছিল।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা

সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন, যার পরিমাণ মে মাসে ছিল প্রায় ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

এর মধ্যে একক ব্যাংক হিসেবে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। মে মাসে এই

ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার, যা একক ব্যাংক হিসেবে

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে

সম্মিলিতভাবে ৫৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যেখানে অগ্রণী ব্যাংক

সোয়া ২৪ কোটি ডলার নিয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকও ৪১

কোটি ডলার সংগ্রহ করে তালিকায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময় এবং আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র

করে প্রবাসীরা দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে

ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত

হচ্ছেন। দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা সমন্বয় করাও রেমিট্যান্স প্রবাহ

বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের (জুলাই-মে) সামগ্রিক চিত্রও বেশ আশাব্যঞ্জক।

এই সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত

অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। গত অর্থবছরের

প্রথম ১১ মাসে এই অংক ছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। রেমিট্যান্সের এই জোয়ারের

প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও গতি ফিরছে। সোমবার পর্যন্ত দেশের মোট বা

গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা

তহবিলের (আইএমএফ) প্রবর্তিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ

৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *