123 Main Street, New York, NY 10001

আইপিএল ফাইনালে হারের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন গুজরাট

টাইটান্সের ক্রিকেটাররা। রোববার রাতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম থেকে

হোটেলে ফেরার পথে দলটির টিম বাসে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতরে ধোঁয়া

ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সেটি রাস্তার পাশে থামিয়ে ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের নিরাপদে

নামিয়ে আনা হয়। এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও শুভমান গিল ও মোহাম্মদ সিরাজদের

প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষার চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বাসের বৈদ্যুতিক সিস্টেমে শর্ট সার্কিট হওয়ার

ফলেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসের ভেতর ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে

যায়, যা ক্রিকেটারদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে চালক ও নিরাপত্তাকর্মীদের

দ্রুত তৎপরতায় বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। বিকল হয়ে যাওয়া বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর

ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় অন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরে

সেই বাসে করেই দলের সবাই নিরাপদে হোটেলে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে আইপিএলের ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর

কাছে ৫ উইকেটে হারের ঠিক পরমুহূর্তে। আহমেদাবাদে স্বাগতিক হিসেবে খেলতে নেমেও টানা

দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় গুজরাট টাইটান্সের। বিরাট

কোহলিদের কাছে হারার বিষাদ নিয়েই ক্রিকেটাররা মাঠ ছেড়েছিলেন, কিন্তু পথে এই

অগ্নিকাণ্ড যেন সেই মানসিক যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বাসের জন্য অপেক্ষার সময়

শুভমান গিল, মোহাম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাদাদের রাস্তায় বিচলিত অবস্থায় দেখা যায়।

দুর্ঘটনার পাশাপাশি গুজরাট দলের সাম্প্রতিক ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর সূচি নিয়েও ক্রিকেট

মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ধর্মশালা ও মুল্লানপুর হয়ে আহমেদাবাদে পৌঁছাতে গিয়ে

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দলটিকে বেশ ধকল সহ্য করতে হয়েছিল। এমনকি ফাইনালের মাত্র

কয়েক ঘণ্টা আগে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। যদিও দলের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট

বিক্রম সোলাঙ্কি হারের পেছনে ভ্রমণক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি হননি।

তিনি প্রতিপক্ষ আরসিবির জয়ের কৃতিত্বকে ছোট না করে স্বীকার করেছেন যে, তারা ক্লান্ত

ছিলেন ঠিকই, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বর্তমানে গুজরাট টাইটান্সের সকল ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ নিরাপদ রয়েছেন বলে

ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের ওপর দীর্ঘ সফরের যে শারীরিক ও

মানসিক প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আইপিএলের এই আসরটি গুজরাটের জন্য হারের তিক্ততা আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার

স্মৃতির মধ্য দিয়েই শেষ হলো। তবে বড় কোনো আঘাত ছাড়াই দলের সবাই সুস্থ থাকায় স্বস্তি

প্রকাশ করেছেন ভক্ত ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *