123 Main Street, New York, NY 10001

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম আসরে রাজস্থান রয়্যালস শিরোপা জিততে না

পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে পুরো বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের নজর কেড়েছেন দলটির

ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট

হাতে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তার স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইনাল শেষে তিনি একগাদা পুরস্কার

নিজের ঝুলিতে ভরেছেন। প্লে-অফের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটানসের কাছে হেরে

রাজস্থান বিদায় নিলেও রেকর্ডময় এই আসরটি মূলত সূর্যবংশীর নামেই লেখা থাকবে। অদম্য

সাহসিকতা আর বিধ্বংসী ব্যাটিং দিয়ে তিনি কিংবদন্তিদের সারিতে নিজের নাম তুলে

নিয়েছেন।

এই আসরে বৈভব সূর্যবংশী ১৬টি ইনিংসে ব্যাটিং করে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭৭৬ রান

সংগ্রহ করেছেন। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান

সংগ্রাহকের পুরস্কার ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ জিতে নিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে

ক্রিস গেইলের পর তিনিই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক মৌসুমে একই সঙ্গে রান এবং

স্ট্রাইক রেটে সবার শীর্ষে থাকার গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর এই মারকুটে ব্যাটিংয়ের

ওপর ভর করেই রাজস্থান রয়্যালস লিগ পর্বে দাপট দেখিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিতে সক্ষম

হয়েছিল।

ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় সূর্যবংশী কেবল অরেঞ্জ ক্যাপেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি

এবারের আইপিএলের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) এবং ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’

অ্যাওয়ার্ডও জয় করেছেন। আইপিএলের ইতিহাসে তিনিই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে

এই দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার একসঙ্গে নিজের করে নিলেন। এছাড়া সর্বোচ্চ ৭২টি ছক্কা

হাঁকিয়ে তিনি ক্রিস গেইলের এক মৌসুমে ৫৯টি ছক্কার পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ‘সুপার

সিক্সেস অব দ্য সিজন’ পুরস্কার জিতেছেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা স্ট্রাইকার

হিসেবে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ সম্মাননাও তাঁর হাতে উঠেছে।

বোলারদের মধ্যে এবারের আইপিএলে ‘পার্পল ক্যাপ’ বা সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কার

জিতেছেন গুজরাট টাইটানসের প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা। তিনি ১৭ ম্যাচে ৯.৬৮

ইকোনমি রেটে মোট ২৯টি উইকেট শিকার করেছেন। এটি রাবাদার আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়

পার্পল ক্যাপ, এর আগে ২০২০ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ৩০টি উইকেট নিয়ে তিনি এই

সম্মাননা অর্জন করেছিলেন। বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং দাপটের মাঝে রাবাদার বোলিং

নৈপুণ্যও ফাইনাল পর্যন্ত গুজরাটের পথচলাকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল।

পুরস্কার গ্রহণের পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বৈভব সূর্যবংশী জানান যে, এমন অর্জন

তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। প্রথমবার বড় মঞ্চে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কিছুটা

স্নায়ুচাপে থাকলেও তিনি পরের মৌসুমে আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই আসর

থেকে তিনি শিখেছেন কীভাবে চাপের মুখে নিজেকে শান্ত রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী

ব্যাটিং করতে হয়। ইনজুরি এড়িয়ে লম্বা সময় ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে এখন থেকে নিজের

ফিটনেস ও মানসিক একাগ্রতার দিকে বিশেষ নজর দেবেন বলে জানিয়েছেন এই উদীয়মান ক্রিকেট

তারকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *