123 Main Street, New York, NY 10001

২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সেই নাটকীয় ড্র

টেলিভিশনের পর্দায় দেখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন ৬ বছর বয়সী এক শিশু। দীর্ঘ

১৬ বছরের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে ফিন সুরম্যানের জন্য। এবারের

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কিউইদের সামনে এখন

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটানো। এর আগে

দুইবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও মূল আসরে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জেতার স্বাদ পায়নি

ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশটি।

ফিফাকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ডিফেন্ডার ফিন সুরম্যান তাঁর

উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবারের আসরে নিউজিল্যান্ড কেবল

অংশগ্রহণ করতেই আসছে না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রথম জয় তুলে নিয়ে নক-আউট

পর্বে পা রাখা। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ‘বি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, মিশর এবং ইরানের

মুখোমুখি হবে। গ্রুপটি যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও সুরম্যান মনে করেন, প্রতিটি দলকে সমান

গুরুত্ব দিয়ে খেললে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব। তাঁর মতে, কাগজে-কলমে কোনো দল

হয়তো অনেক বড় নাম নয়, কিন্তু তাদের দলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বমানের অনেক খেলোয়াড়

রয়েছেন যাদের বিপক্ষে লড়া চ্যালেঞ্জিং হবে।

নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য শিশুদের মতো সুরম্যানের শৈশব কেটেছে ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ও

বাস্কেটবলের মতো বৈচিত্র্যময় খেলার মধ্য দিয়ে। তবে ১৪ বছর বয়সে অন্য সব খেলা ছেড়ে

তিনি পুরোপুরি ফুটবলে মনোনিবেশ করেন। এর আগে ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং

২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে দেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুড়িতে রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার

বিশ্বাস করেন, বড় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁকে মূল বিশ্বকাপে

স্নায়ুচাপ সামলাতে এবং দলের রক্ষণভাগকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিতে দারুণভাবে সাহায্য

করবে।

নিজের খেলার ধরণ সম্পর্কে সুরম্যান বলেন, তিনি মূলত রক্ষণ সামলাতেই সবচেয়ে বেশি

স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা, নিখুঁত ট্যাকল এবং শট ব্লক

করার মধ্যেই তিনি খেলোয়াড়ি জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান। নিজেকে একজন ‘ডিফেন্ডারস

ডিফেন্ডার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সামনের জুনে

ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে কিউই সমর্থকদের সামনে নিউজিল্যান্ড তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন

অধ্যায় যোগ করতে পারবে। সমর্থকদের এই সরব উপস্থিতি এবং দলের বর্তমান সংহতি

দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা ধারণা

করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *