123 Main Street, New York, NY 10001

জার্মানিভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আমান গ্রুপ

বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে বড় ধরণের

বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে

আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)

মার্কাস নিকোলাউস এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের

সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক সভায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা,

আন্তর্জাতিক বাজারের নানামুখী চ্যালেঞ্জ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত

আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বছরের শুরুতে

বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পোশাক রপ্তানি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমানে খাতটি

দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন বড় ধরনের

রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য

শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন বৃদ্ধি করা।’ তিনি

আমান গ্রুপকে শুধু একজন সরবরাহকারী হিসেবেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক অংশীদার

হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি জার্মানির নামী ব্র্যান্ডগুলোর কাছে

বাংলাদেশের উন্নত কর্মপরিবেশ ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরার জন্য আমান গ্রুপের প্রতি

বিশেষ অনুরোধ জানান।

জবাবে মার্কাস নিকোলাউস বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ওপর আস্থা রেখে বলেন, তারা

এদেশের বাজারে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে ‘হাই-টেক

টেক্সটাইল খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও

যোগ করেন যে, আমান গ্রুপ তাদের উন্নতমানের সুতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের

‘প্রিমিয়াম সেগমেন্ট’ বা বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা মেটাতে বদ্ধপরিকর। বৈঠকে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঝুঁকি, মার্কিন শুল্ক নীতি এবং বাংলাদেশের বন্দর ও জ্বালানি

খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

আমান গ্রুপের এই প্রতিনিধিদলে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন,

যাদের মধ্যে চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ক্রিস্টিন বাউয়ার এবং কান্ট্রি ম্যানেজিং

ডিরেক্টর রোকন জামান উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ‘আমান বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর মাধ্যমে

বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিজিএমইএ সভাপতি তাঁদের

নতুন বিনিয়োগের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরণের নীতিগত ও কৌশলগত সহায়তার

আশ্বাস দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে আরও

আধুনিক ও শক্তিশালী করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *