123 Main Street, New York, NY 10001

দেশের বর্তমান অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ,

বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সংকটের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের

সম্মুখীন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মনে করছে, উৎপাদন

খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে। শনিবার (১৬ মে)

সংগঠনটির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার

সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এসব

তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে বক্তারা জানান, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার

সরাসরি প্রভাব পড়ছে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিতে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বিদ্যমান পরিস্থিতির

গভীরতা তুলে ধরে বলেন, “দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগে মন্থরতা, জ্বালানির অনিশ্চয়তা ও

কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও

উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের প্রচলিত সূচকগুলো অর্থনীতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তনগুলো

সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাই নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের বাস্তব

পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে ডিসিসিআই এই নতুন অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক

(ইপিআই) প্রবর্তন করেছে।

গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিসিসিআই-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. এ কে এম

আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, উৎপাদন ও সেবা খাতের ৭৬২ জন অংশীজনের মতামতের

ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু

পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে কৃষিজ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং জ্বালানি সংকটের কারণে

শিল্প খাতের চাকা থমকে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক

হারে বেড়ে যাওয়ায় সেবা খাতেও মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ, পণ্য সরবরাহ

ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থার সুপারিশ

করা হয়েছে। এছাড়া শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং

বন্দরে পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেমিনারে

উপস্থিত প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদী সাত্তারসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা লাইসেন্সিং

সেবায় হয়রানি কমানো ও ভ্যাট হার পুনর্নির্ধারণের গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান

অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ

এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *