123 Main Street, New York, NY 10001

মায়ের গর্ভে থাকা অনাগত শিশুর লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ করাকে সংবিধান পরিপন্থী এবং নারীর

প্রতি চরম বৈষম্যমূলক হিসেবে ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিশুর লিঙ্গ

নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা কেবল অনৈতিক চর্চাই নয়, বরং এটি কন্যাশিশু হত্যার মতো

জঘন্য প্রবণতাকে উসকে দিয়ে সামাজিক ভারসাম্য বিপন্ন করে।

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড “নারীর মর্যাদা, সমতা ও

জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও চরম

লঙ্ঘন।” হাইকোর্টের মতে, এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২

অনুচ্ছেদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশে দীর্ঘদিন

ধরে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কার্যকর কোনো জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ও তদারকি ছিল না।

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এ সংক্রান্ত কঠোর আইন থাকলেও বাংলাদেশে কেবল

গাইডলাইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয় বলে আদালত মত দেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এক বিশাল ও সময়োপযোগী নির্দেশনা

দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার

নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশের সকল নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক

সেন্টারের পরিচালিত পরীক্ষার রিপোর্ট সংরক্ষিত থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার

এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে পারবে। আদালত এই পুরো

প্রক্রিয়াটিকে ‘ধারাবাহিক তদারকি’ বা ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন,

যাতে এর বাস্তবায়ন আদালত নিজেই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এই

জনগুরুত্বপূর্ণ রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট এই

যুগান্তকারী রায় প্রদান করলেন। রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান নিজে

শুনানি করেন এবং তাঁকে সহায়তা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে এই শুনানিতে

উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *