123 Main Street, New York, NY 10001

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে দেশের বিনোদন জগতের তারকারা তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ও

অনুপ্রেরণা ‘মা’কে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের

শেয়ার করা পোস্টগুলোতে ফুটে উঠেছে মাতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা

আর মায়েদের নিভৃত আত্মত্যাগের নানা অজানা গল্প।

চিত্রনায়ক ওমর সানী তাঁর প্রয়াত মায়ের একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে ১৯৯৫ সালের একটি

বিশেষ অধ্যায় উন্মোচন করেছেন। তিনি জানান যে, মহাখালীর বাসায় মৌসুমীকে বিয়ে করার

সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁর মা-ই ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজী ডেকে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের

সূচনা করেছিলেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি লেখেন, ‘সেখান থেকে আজ অব্দি একসঙ্গে

আছি আলহামদুলিল্লাহ।’ জননীকে হারিয়ে তিনি নিদারুণ শূন্যতা অনুভব করেন বলে সামাজিক

মাধ্যমে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস মাতৃত্বের এক গভীর দর্শন তুলে

ধরে লিখেছেন, ‘মাতৃত্ব একটি পবিত্র যাত্রা, যা সততার ওপর গড়ে ওঠে; কোনো লুকোচুরি বা

বিতর্কের ওপর নয়।’ মা দিবসেই নিজের মায়ের জন্মদিন পালন করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম,

যিনি নিজের গর্ভধারিণীকে জীবনের রানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া অর্চিতা

স্পর্শিয়া ও সুনেরাহ বিনতে কামালের লেখনীতেও মায়ের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার

চিত্র ফুটে উঠেছে।

জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব তাঁর মা লুৎফা মাহবুবের জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তের কথা

স্মরণ করে জানান যে, তিনি একসময় কাতার এয়ারওয়েজের এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু সন্তান ও পরিবারের দেখভালের কথা চিন্তা করে তিনি সেই সম্মানজনক পেশা ছেড়ে

দেন। তৌসিফ বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, মা পুরো সংসারটা আগলে রেখেছেন। আমার

আজকের অবস্থানের পেছনে মায়ের অবদান ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে আনন্দের বিষয়

হলো, মা এখন আমার অভিনয়ের সবচেয়ে বড় ভক্ত।”

অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার ক্ষেত্রেও ত্যাগের প্রেক্ষাপটটি ছিল অনন্য। তাঁর মা নার্গিস

আক্তার আইসিডিডিআর’বি-র চাকরি বিসর্জন দিয়েছিলেন তাঁর দুই মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের

আশায়। এ প্রসঙ্গে ফারিয়া তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমার আম্মুই আমার জীবনের

সবচেয়ে বড় নেয়ামত। সন্তানের সুখের জন্য মায়ের এমন ত্যাগ সত্যিই বিরল। আমি চাই,

একদিন আমার কারণে মা যেন সবার কাছে গর্ব করতে পারেন।”

একইভাবে ফারহান আহমেদ জোভান তাঁর মা সোহেলী আহমেদের সংগ্রামী জীবনের চিত্র তুলে

ধরেছেন। তাঁর মা ছিলেন একজন স্বনামধন্য ইংরেজি শিক্ষিকা, তবে সন্তানদের মানুষ করার

তাগিদে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। জোভান এক গণমাধ্যমকে জানান যে,

তাঁর বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় মা একাই সব প্রতিকূলতা সামাল দিয়েছেন। জোভানের

ভাষায়, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে আছেন। মা একাই আমাদের বড় করেছেন, সংসার

সামলেছেন। আমি মনে করি, আমার মা একজন সত্যিকারের যোদ্ধা।” শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের

এই সকল শ্রদ্ধাভরা বার্তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেই চিরন্তন মা—যিনি নিজের সুখ

তুচ্ছ করে সন্তানদের সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *