123 Main Street, New York, NY 10001

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ভৃকুটি মণ্ডপ প্রদর্শনী হলে আয়োজিত ‘২য় দক্ষিণ এশীয়

বাণিজ্য মেলা ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের

প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সক্ষমতা এবং দক্ষিণ এশীয়

বাজারে বাণিজ্যিক পরিধি বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে এই প্যাভিলিয়নটি স্থাপন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান প্রধান

অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর আর্থিক সহায়তায়

নির্মিত এই প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে নেপালের জ্যেষ্ঠ

সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা

গেছে।

প্যাভিলিয়নটিতে বাংলাদেশের মোট ২৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানিমুখী

পণ্য প্রদর্শন করছে। যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বমানের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও পাটজাত

পণ্য এবং নিপুণ কারুশৈলীর হস্তশিল্প। প্রদর্শনী চলাকালে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন স্টল

পরিদর্শন করেন এবং অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের এই জোরালো অংশগ্রহণ আঞ্চলিক

অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেশের অবস্থানকে সুসংহত করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে

প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এছাড়া সম্ভাব্য ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের

প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে ইপিবি প্যাভিলিয়নের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ

তথ্যকেন্দ্র পরিচালনা করছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর ম্যারিয়ট হোটেলে

অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা এবং নেপালের ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মানে এক

বর্ণাঢ্য নৈশভোজ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের

উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেপালের এফএনসিসিআই, এনসিসি ও এনএফটিএ-সহ শীর্ষস্থানীয়

চেম্বার প্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দিনের শুরুতে

দূতাবাসের কার্যালয়ে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের

বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের

নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মো.

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং পাট

শিল্পে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি কেন্দ্র। কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প,

আইসিটি এবং পর্যটন খাতেও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিপুল

সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাবান্ধার মতো স্থলবন্দর ব্যবহারের

ফলে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত

উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

দেন। অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং সেশন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে

পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা

করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *