123 Main Street, New York, NY 10001

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক

প্রভাব পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। এসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে

দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে শঙ্কার কথাও বলেছে সংস্থাটি। কারণ হিসেবে বলা

হয়েছে- পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে। এ যুদ্ধের

সংকটে উদ্ভুত বেশি বেকায়দায় পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যারা জ্বালানি তেলের প্রায়

পুরোটাই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।

এরই প্রভাব পড়ছে আমাদের অর্থনীতিতে। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে ৯ শতাংশ অতিক্রম

করেছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের

প্রভাবে এতে পড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন করে চাপ

বেড়েছে।

বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির

হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

টানা চার মাস মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল মাসে আবার তা

বেড়েছে। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান

করছে।

গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। সে অনুযায়ী, ডিজেলের দাম

লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০

টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়।

আইএমএফ ও জাতিসংঘের তথ্যে জানা যায়- ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের জেরে

বিশ্ববাজারে সারের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে, যা পরবর্তী সময়ে

বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এই উৎপাদন ঘাটতি

খুব দ্রুতই কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যতদিন এই সংকটের সমাধান না

হবে, সময়ের সাথে সাথে খাদ্য সংকটের এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত ও তীব্রতর হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন খরচ

বাড়ে এবং এর প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে। এতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি দামে

পণ্য কিনতে হয়।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয়

এলাকাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়

বেড়ে যায়। আয় না বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

গত দুই সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা

পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে, তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল

রয়েছে।

এদিকে এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির

চেয়ে কম। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে

ভোগান্তি বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে মানুষকে ধারদেনা করতে হয় কিংবা

খাবার, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হতে হয়।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব বলছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়

অঞ্চলে আর্থিক ক্ষতির কারণ হিসেবে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে

যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইউএনডিপি পূর্বাভাস দিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ

মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যার ৮৮ লাখই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়

অঞ্চলের।

ইউএনডিপি সতর্ক করে বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিবার ও ব্যবসা

প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সরকারি ব্যয় ধরে রাখার চাপ দিন দিন বাড়বে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আলাদা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল,

প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় খাদ্য সংকট বিপর্যয়কর পর্যায়ে চলে যেতে

পারে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সবশেষ পূর্বাভাস বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য

সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি চলতি ও আগামী

বছরে হ্রাস পাবে নামতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *