123 Main Street, New York, NY 10001

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরের ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসমানকে ৫ উইকেটে

হারিয়ে শিরোপা জয় করেছে পেশোয়ার জালমি। রোববার দিবাগত রাতে লাহোরের গাদ্দাফি

স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে দ্বিতীয়বারের মতো

চ্যাম্পিয়ন করেছেন অজি তারকা অ্যারন হার্ডি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার

অবসান ঘটিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল বাবর আজমের দল। এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন

বাংলাদেশি গতি তারকা নাহিদ রানা, যাকে বিশেষ বিবেচনায় নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে ছুটি

দিয়ে পিএসএলের ফাইনাল খেলার অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে পেশোয়ারের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে

হায়দরাবাদ কিংসমান। ওপেনার সাইম আইয়ুব এক প্রান্তে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও

অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি মার্নাস ল্যাবুশেনের দল। ১৮ ওভারে

মাত্র ১২৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় হায়দরাবাদ। পেশোয়ারের পক্ষে অ্যারন হার্ডি ২৭ রানে

৪টি এবং নাহিদ রানা ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট শিকার করেন।

এ ছাড়াও মোহাম্মদ বাসিত ও সুফিয়ান মুকিম একটি করে উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদকে অল্প রানে

আটকে রাখতে সহায়তা করেন।

১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল পেশোয়ার জালমি।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আলির বলে গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক

বাবর আজম এবং মোহাম্মদ হারিসও মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৭

রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন হারের শঙ্কায়, ঠিক তখনই দলের হাল ধরেন অ্যারন হার্ডি ও

আব্দুল সামাদ। এই জুটি ৮৫ রানের এক দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে জয়ের ভিত মজবুত করেন।

সামাদ ৪৮ রান করে আউট হলেও হার্ডি ৩৯ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে

দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ১৫.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়

পেশোয়ার।

পেশোয়ারের এই ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে

নাহিদ রানার পারফরম্যান্স। জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পেশোয়ারের

হয়ে ফাইনালে মাঠে নেমে বল হাতে নিজের গতির ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত

বোলিং হায়দরাবাদের রানের চাকা শ্লথ করে দিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাটারদের জন্য

কাজ সহজ করে দেয়। অন্যদিকে, পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত খেলা হায়দরাবাদ কিংসমান ফাইনালে

এসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে শিরোপা হাতছাড়া করে। বিশেষ করে ল্যাবুশেন ও আইয়ুব বাদে

অন্য কোনো ব্যাটার দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে না পারা তাদের হারের প্রধান কারণ হয়ে

দাঁড়ায়।

দীর্ঘ ৯ বছর পর পেশোয়ার জালমির এই শিরোপা জয় দলটির জন্য বড় এক অর্জন হিসেবে দেখা

হচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে তারা অনেকবার নকআউট পর্বে

পৌঁছালেও ট্রফি জিততে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার হার্ডির অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং নাহিদ

রানার কার্যকরী বোলিংয়ের ওপর ভর করে বাবর আজমরা আবারও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরলেন। এই

বিজয়ের ফলে পেশোয়ারের ভক্তদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচল এবং বাবর আজমের নেতৃত্বে

দলটির আত্মবিশ্বাস আগামী মৌসুমের জন্য আরও শক্তিশালী হলো। লাহোরের কানায় কানায়

পূর্ণ স্টেডিয়ামে আতশবাজির মধ্য দিয়ে পেশোয়ারের এই সাফল্য উদযাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *