123 Main Street, New York, NY 10001

ময়মনসিংহে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাবে সবজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কেজিপ্রতি

১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (৩ মে) সকালে নগরীর অন্যতম প্রধান

পাইকারি বাজার মেছুয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের

সংখ্যা কমে আসায় ক্রেতাদের বাড়তি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে।

বাজারে বর্তমান মূল্যের তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁকরোলের দাম; যা

বর্তমানে প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১৫-২০ টাকা বেশি।

এছাড়া প্রতি কেজি পটোল ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কচুর মুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকায়

বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে চিচিঙ্গা ও ঝিঙে ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা

এবং শসা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে সজনে ডাঁটার দাম আকাশচুম্বী হয়ে প্রতি

কেজি ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে এবং বেগুনের কেজি দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

কাঁচামরিচের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে

মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে

বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির মাঝেও গাজর ও পেঁপের দাম স্থিতিশীল রয়েছে; যা আগের মতোই

কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয়

উৎপাদনকারী এলাকাগুলো থেকে পর্যাপ্ত সবজি না আসায় চাহিদার তুলনায় জোগানে বড় ঘাটতি

তৈরি হয়েছে।

আড়তদারদের মতে, গত চার-পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠ থেকে সবজি

সংগ্রহ করতে পারছেন না। পাইকারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে

জানানো হয়েছে, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পণ্য পাঠাতে না পারায় আমদানি অনেক কমে গেছে।

আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ বস্তা সবজি আসত, এখন তা কমে মাত্র ২-৩ বস্তায় নেমেছে।

সরবরাহের এই বিশাল পতনই মূলত পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ

করছে।

পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। খুচরা বাজারে

গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি দরের চেয়ে আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি দামে সবজি বিক্রি

করছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য প্রাত্যহিক বাজার

করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা

স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির এই বাড়তি দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *