123 Main Street, New York, NY 10001

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া

নেতাদের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ করেছেন

সংগঠনটির একাংশের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ

সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

প্ল্যাটফর্মের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুখ্য

সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির মুখপাত্র

সিনথিয়া বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক

দলের নয়, সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ নিজেদের মতো

ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি

টাকা সংগ্রহ করেছেন। আমাদের অন্ধকারে রেখে তারা ওই অর্থ লোপাট করেছে।’

সিনথিয়া বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা

অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত তথ্য

বা নথি না করে কেবল মৌখিকভাবে কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন শীর্ষ

নেতা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে পরে মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি

স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব বা প্রমাণ দেখানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটিগুলোকে অন্ধকারে

রেখে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ

ব্যবহারে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে

বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অডিট ও অনিয়মের বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের

আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন।

সিনথিয়া জানান, সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হবে জানতে পেরে তাদের

বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কোনো আর্থিক

সুবিধা দাবি করিনি। আমাদের কেউ এক টাকাও দাবি করেছে—এমন প্রমাণ যদি দিতে পারে,

তাহলে আমাদের বিচার দেশবাসী ও আইন করবে।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পুনর্গঠনের দাবিও তোলা হয়। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন,

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন

করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ‘সংগঠনকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে

আনতে আমরা দ্রুত কাউন্সিল করব। কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত প্রভাব নয়, সদস্যদের

ভোটেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।’

একই সঙ্গে বক্তারা আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশের দাবি জানান এবং বলেন,

‘গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *