123 Main Street, New York, NY 10001

ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ পর এক দোটানায় পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার ব্যাপারে খবর পেয়ে পরে যে ভাবনা বা আতঙ্ক জন্মেছিল, তা প্রকাশ পেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন প্রতিক্রিয়ায়। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরান এই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার পর ট্রাম্প তার সহযোগীদের ওপর ক্ষোভে চিৎকার করেছিলেন ঘণ্টা খানেকের জন্য। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠার আশঙ্কায়, ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে বাইরে রাখা হয় বলে এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়। কারণ, তিনি যদি ঘটনা তার সংবেদনশীল মনোভাব বা ক্ষোভে দমন করেন, তবে তা সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল।

সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, এই সময় ইরান এই যুদ্ধের পর থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আসার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের মধ্যে অবাক হচ্ছিলেন, কেন ইরান এত দ্রুত ও সহজে এই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে পারলো। ট্রাম্প নিজেও বিস্মিত হন এবং মন্তব্য করেন, ‘একজন ড্রোনের মাধ্যমে কীভাবে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়া যায়!’

অপরদিকে, এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসসহ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ পরিস্থিতির সর্বশেষ ছবি ও তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘সিচুয়েশন রুমে’ যোগ দেন। তবে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প সরাসরি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; বরং তাকে ফোনে এই পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন জানানো হচ্ছিল।

৩ এপ্রিল প্রথম ক্রু উদ্ধার হওয়ার পর, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় ক্রু-প্রত্যাশীকে খুঁজে বের করার কাজ শুরু হয়। কারণ, ইরানি বাহিনী যাতে তাঁদের আটক না করে ফেলে, সে জন্য দ্রুততম সময়ে এই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। অবশেষে ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় জানানো হয় যে, দ্বিতীয়জনও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সফলতা অর্জিত হয়েছে।

এই উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানায় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কাজ, যেখানে বলে রাখা দরকার, এই সুই হলো এক সাহসী মার্কিন সৈনিক, যিনি পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন। এই অভিযানে সিআইএর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া তাকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল।’

অভিযানের সময়, ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ও তাদের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরাতে সিআইএ একটি গোপন প্রচেষ্টা চালায়। তারা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে, নিখোঁজ ক্রু উদ্ধার হয়েছে এবং তারা নিরাপদে আছেন। এই সংবেদনশীল মুহূর্তে, ট্রাম্প মধ্যরাতে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এই সফল অভিযানের খবর দেন এবং রাত দুইটায় ঘুমাতে যান। তিনি টুইট করেছিলেন, ‘এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ের শত্রুসীমানায় ছিলেন। শত্রুরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, ও প্রতি ঘণ্টায় তারা তার কাছাকাছি চলে আসছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *