123 Main Street, New York, NY 10001

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান নিজের মাঠে বা রণক্ষেত্রে জয় লাভ করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সম্প্রতি তিনি এক বিশেষ ভাষণে এই মন্তব্য করেন। গালিবাফ মন্তব্য করেন, আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের পরও ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে, এবং ইরান এখনো তার কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।

স্পিকার গালিবাফ বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেও আসলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য ছিল। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিশ্ববিখ্যাত ও সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব আজও অটুট রয়েছে। মার্কিন নৌ-ব বন্দোবস্ত বা চাপের মুখেও এই জলপথের কর্তৃত্ব হারায়নি তেহরান, যা তিনি ইরানের এক বিশাল কৌশলগত বিজয় বলে অভিহিত করেন।

বর্তমান সময়ের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে গালিবাফ ব্যাখ্যা দেন, ইরান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে বসেছে। তিনি বলেন, ইরান কোনো দুর্বলতা দেখিয়ে নয়, বরং নিজের শর্ত ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই যুদ্ধবিরতি করছে। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা আজকের এই যুদ্ধবিরতি মানছি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া শর্তগুলো মানতে বাধ্য হয়েছে।“ গালিবাফের মতে, শত্রুপক্ষ শুরু থেকেই একপাক্ষিক ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যা ইরান সাহসের সঙ্গে প্রতিহত করেছে।

তিনি আরো বলেন, আলোচনা ও সংলাপ এখন নতুন সংগ্রামের একটি হাতিয়ার। আলোচনা মানে যুদ্ধেরই একটি অংশ, যেখানে কূটনীতি ও মেধার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেষ্টা চলছে। গালিবাফের এই কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী শব্দাবলী মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধের গভীরতা প্রকাশ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গালিবাফের এই ভাষণ মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ জনগণের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেহরানের দৃঢ় অবস্থান জানান দেওয়া। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে শর্ত মানানোর দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে পারে। ভবিষ্যতে ইসলামাবাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইরানের এই শক্তিশালী অবস্থান আলোচনার টেবিলে তাদের প্রভাব আরও বাড়াতে পারে। তবে এখন সময় বলছে, এই যুদ্ধবিরতি কি বিশ্বশান্তির স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করতে পারবে, না কি আবার সংঘাতের আগুন জ্বলেপোড়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *