123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান গড়িমসি ও উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষণা করা ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তিনি এক বিশেষ এঙ্গেজড মন্তব্যে সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এই স্থবিরতা কঠোরভাবে মানতে এবং সংঘাত এড়াতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান। মহাসচিবের মতে, এই সাময়িক বিরতি একদিকে যেমন ক্ষতিপূরণ এবং শান্তি ফেরানোর উপায় হিসেবে কাজ করবে, অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, মহাসচিব এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে এই জটিল পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। মহাসচিব আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, এই ১০ দিনের বিরতি শুধু যুদ্ধের তীব্রতা কমাবে না, বরং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতার পথ প্রশস্ত করতে সহায়ক হবে।

বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী পক্ষগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সকল পক্ষ এই যুদ্ধবিরতির সব শর্ত পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে মানতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, সব পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, কঠোরভাবে মানতে হবে। এই যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ যে ক্ষয়ক্ষতি ভোগ করেছে, তা রোধে এই বিরতিকে কার্যকর রাখা এখন সবচেয়ে বড় প্রাধান্য।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জাতিসংঘের সরাসরি আহ্বান শুধুমাত্র ইসরায়েল ও লেবাননের সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা। যেহেতু হিজবুল্লাহ এই সংঘাতের এক অন্যতম প্রধান পক্ষ, তাদের পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন, কারণ এটি শান্তি প্রক্রিয়াকে সফল করতে অপরিহার্য। মহাসচিবের এই সময়োচিত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও এক ধাপ। এই মুহূর্তে সব দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব, এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি স্থায়ী কোনো চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *