123 Main Street, New York, NY 10001

সরকার আগামী মাসে আরও ১৬টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে আগ্রহী। বর্তমানে দেশে এলএনজির সরবরাহে কোনও সংকট নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সফলভাবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সরকার নিয়মিতভাবে এলএনজি আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। এতে করে দেশের জ্বালানি সরবরাহের কোনও ব্যাঘাত ঘটে না এবং দেশের অর্থনীতিতে এটির কোনো ক্ষতি হয় না।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি মাসে পুরো এপ্রিলজুড়ে ৯টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪টি কার্গো দেশে এসে পৌঁছেছে। তিনি জানান, আগামী মে মাসে ১১টি কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭টি কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪টির কেনাকাটার প্রক্রিয়া চলমান।

পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) জানায়, চলতি মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজির আমদানি রয়েছে। এর মধ্যে চারটি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে, একটি আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকে কেনা হয়েছে। বাকি পাঁচটি কার্গোও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অ্যাঙ্গোলা থেকে আসার কথা চলছে।

অন্যদিকে, মে মাসের জন্য ইতোমধ্যে ৭টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি স্পট মার্কেট থেকে এবং ২টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে। দেশের গ্যাসের স্বাভাবিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দিয়েই যতটা সম্ভব আমদানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে, যাতে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমশই আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়তে থাকায় জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়ছে। এ কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে অর্থনৈতিক চাপে পড়তে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে, অন্যথায় চাপ অব্যাহত থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি কেনা সম্ভব, যা দেশের জন্য বড় ধরনের বিকল্প উৎস হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানি কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক বাধার মুখে পড়ে না, ফলে সহজে ও কম খরচে জ্বালানি সংগ্রহ সম্ভব। এসব উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করলে দেশের জ্বালানি প্রয়োজন মেটানো আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *