123 Main Street, New York, NY 10001

যুক্তরাজের ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান গণমাধ্যম বিবিসি তাদের মোট কর্মীবাহিনীর দশ শতাংশ বা প্রায় ২১,৫০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই বড় সিদ্ধান্তটি লন্ডনের বিবিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বুধবার এক বিশেষ সাধারণ সভায় জানানো হয়। এটি ২০১১ সালের পর বিবিসির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রকমের ছাঁটাইয়ের ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই ঘোষণা আসার কারণ হলো প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক আর্থিক ঘাটতি। ফেব্রুয়ারিতে জানানো হয়েছিল যে, বিবিসি তাদের বার্ষিক বাজেট থেকে কমপক্ষে ৬০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে চায়। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও তাদের আয়ের চাহিদা অনুযায়ী খরচ কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিবিসির বার্ষিক খরচ প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড, এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তারা কমপক্ষে ৫০ কোটি পাউন্ড খরচ সংকুচিত করতে চায়।

প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক রদ্রি তালফান ডেভিস কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রোডাকশন ও অনুষ্ঠান নির্মাণে খরচ বাড়ছে, পাশাপাশি লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয়ের ক্ষেত্রগুলোও চাপের মুখে। তিনি স্বীকার করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে, তবে সংস্থাটির অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডেভিস আর বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেকেই ক্ষতি সহ্য করবেন, তবে এটি বিবিসির ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে জরুরি।

উল্লেখ্য, এই সংকটের সূচনা হয়েছিল নভেম্বরে, যখন তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি পদত্যাগ ঘোষণা করেন। তিনি বিতর্কিত সংবাদ কাভারেজের জন্য সমালোচিত হন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা যুদ্ধ, ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে। এই পরিস্থিতির জের ধরে তিনি এপ্রিলের প্রথম দিকে বিবিসি ছেড়ে যান। বর্তমানে নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষারত প্রতিষ্ঠানটি এখন বৃহৎ সংস্কার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বিবিসির এই কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার কর্মীদের ইউনিয়ন ‘বেকটু’ (Bectu)। সংগঠনের নেত্রী ফিলিপ্পা চাইল্ডস দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, এই হারে কর্মী ছাঁটাই শুধুই কর্মচারীদের জন্য নয়, এটি বিবিসির সার্বিক সংবাদ মান ও অর্জনকেও প্রভাবিত করবে। তিনি মন্তব্য করেন, বিবিসি একটি জাতীয় সম্পদ এবং সরকারের উচিত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো। প্রশ্ন উঠেছে, এই ছাঁটাইয়ের ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদদন্ডে বিবিসির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও কার্যক্ষমতা কতটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *