123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা প্রশমনের জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে কোনও স্পষ্ট সমঝোতা ছাড়া। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই ব্যাপক বৈঠকের পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, ইরান তাদের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে কোনো অর্থবহ চুক্তিতে আসতে রাজি নয়। ব্রিফিংয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তেহরানের পক্ষ থেকে সেইসব অঙ্গীকারের প্রয়োজন ছিল, যা দেখায় তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বা ভবিষ্যতে এ ধরনের সক্রিয়তা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু এই আলোচনায় তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনও দৃঢ় বার্তা পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জে ডি ভ্যান্স জানান, বেশ কিছু দিন ধরেই ওয়াশিংটন ইরানের কাছে এক পরিষ্কার এবং ইতিবাচক অঙ্গীকার আশা করেছিল। আমেরিকা চেয়েছিল, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা এমন উপকরণ গবেষণা না করে, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক শক্তি অর্জনে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সেই মৌলিক ইচ্ছার দেখা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। ভ্যান্সের মতে, ইরান কেবল স্বল্পমেয়াদী সুবিধা দেখছে এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অবস্থান এখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।

ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের বৈরিতা চলতি দুই দশকের অন্যতম জটিল সংকটে রূপ নিয়েছে। এই সংকটের সমাধানে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ৬ ফেব্রুয়ারি। টানা ২১ দিন চলা এই আলোচনা কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষে হয়। সেই ব্যর্থতার পরই অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এক বিশাল সামরিক অভিযান চালাতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী। একই সঙ্গে, ইসরায়েলও সঙ্গী হয়ে দেশে দেশে চালায় সামরিক আঘাতের কর্মসূচি।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর, ৭ এপ্রিল দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে, সেই বিরতি চলাকালে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে আবারও আলোচনা শুরুর চেষ্টা চালায় দ্বিপাক্ষিক প্রতিনিধি দল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পরও ফলাফল কিছুই না হওয়ায় এবং জে ডি ভ্যান্সের এই হতাশাজনক মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, দুই দেশের মধ্যকার আস্থা এখনও পুরোপুরি ফেরার পথটুকু বাঁধা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই ব্যর্থ সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা পুনরায় বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ইরানের অটুট পরমাণু নীতির পাশাপাশি ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা। আপাতত এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি চললেও, স্থায়ী শান্তি চুক্তির কোনো লক্ষণ না থাকায় পুরো বিশ্ব এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তাকিয়ে আছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ভ্যান্স ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তনের আশাও করছেন, তবে আশ্চর্যজনক কিছু না হলেও, বাস্তবতা যুদ্ধের দামামাকেই পুনরায় জোড়ালো করে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *