123 Main Street, New York, NY 10001

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ এক মাসের স্থবিরতা ও দরপতনের পর অবশেষে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। মূলত ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যান্য খাতে উদ্বেগ এবং নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছিল, কিন্তু চলমান সপ্তাহে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ব্যাংক শেয়ারগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে, যার ফলে দেশের প্রধান দুই স্টক এক্সচেঞ্জ—the ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই সূচক এবং লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিএস-৩০ সূচক এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস-ও উন্নতির পথে এগুচ্ছে। যদিও সপ্তাহের অন্যান্য সময়ে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দর কমলেও, বড় মাপের ও মূলধনী কোম্পানিগুলোর দর বেড়েছে, যা সূচককে সামগ্রিক ভাবে উর্ধ্বমুখী রাখতে সাহায্য করেছে। বরেণ্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান যেমন ব্র্যাক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ও সিটি ব্যাংকের শেয়ার দাম বেড়ে অবশেষে বাজারে স্বস্তি এনেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি ছিল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব। সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীরা আবার আশাবাদে ভরে ওঠে এবং বাজারে উত্থান ঘটে। যদিও শেষের দিকে কিছুটা পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক, তবে সামগ্রিক ফলাফল ইতিবাচকই রয়ে গেল।

বিভিন্ন খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওষুধ ও রাসায়নিক খাত সোমবার সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ শতাংশই এই খাতের। অন্যদিকে, প্রকৌশল ও ব্যাংক খাতও যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখিয়েছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে চামড়া খাতের বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪ শতাংশ লাভ তুলে নিয়েছেন। ব্যাংক, কাগজ ও মুদ্রণ খাতের বিনিয়োগকারীরাও পয়েন্টের হিসেবে ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি লাভ করেছেন। এর বিপরীতে, মিউচুয়াল ফান্ড ও জীবন বীমা খাতে কিছুটা লোকসান হয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর অর্থসূচক সিএএসপিআই প্রায় ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আশার বাণী নিয়ে এসেছে—আগের সপ্তাহের ১৮৮ কোটি টাকা বেড়ে এখন ২৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, যদি আন্তর্জাতিক অবস্থান স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যাংক খাতের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজারে আরও বৃদ্ধি হবে। তবে এ সবের পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *