123 Main Street, New York, NY 10001

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর কোনোভাবেই তুলনা করা চলে না। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা ও শ্রম রপ্তানিকারকরা মনে করেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার দ্রুত চালু করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় শ্রমবাজার রি-অর্থাৎ পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশীয় প্রতিনিধি দল এখন দেশটিতে অবস্থান করছে। তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবে, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় হবে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা জোরদার করা।

পূর্বে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগে জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়। মাহাদী আমিন বলেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা বৃদ্ধি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক আরও দৃঢ়ীকরণের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তারা। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে অবৈধ শ্রমিকের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা হবে। মাহাদী আমিন নিশ্চিত করেছেন, তাঁদের সরকার দেশের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, মানবিক ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে জোরেশোরে কাজ করবে। কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসন রোধ করে বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করে দিতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এটি সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে জানা যায়, দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন হয়, যারা রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের জিম্মি করে সরকারি নিয়মের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করত।

তবে মালয়েশিয়া সরকার ১৪টি সোর্স দেশ থেকে অদূর ভবিষ্যতে অবাধ শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। আরশঙ্কা রয়েছে, পুনরায় শ্রমবাজার খোলার পর পুরোনো চক্র আবার সক্রিয় হয়ে যায় এবং ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি, আরও ৪০০ নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এমন অভিযোগও উঠছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো প্রক্রিয়ায় শ্রমবাজার খোলার সময় কঠোর মনিটরিং না থাকলে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রায় খরচ হতে পারে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। এই ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে একজন শ্রমিকের জন্য সময় লাগতে পারে ২ থেকে ৩ বছরও। ফলে, এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও নজরদারি অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *