123 Main Street, New York, NY 10001

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের ছাড়া একোভাব আলাপ আলোচনা হবে না। হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জাদিন আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু উবাইদা রোববার এক ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন, ‘তারা অস্ত্র ছাড়বে না।’ তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার দাবি আসলে গাজায় ইসরায়েলের গ্র_interpয হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার একটি কৌশল।

এই আলোচনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়, যেখানে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলাপের বিষয় হয়। সম্প্রতি মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কায়রোতে এক বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠে।

হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির জন্য সব শর্ত পূরণ, ইসরায়েলের হামলা বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। তারা বলেছে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গাজা এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, হামাস যদি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হয়, তবে সেনা প্রত্যাহার করবে না। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই অবস্থানে থাকায় দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে হামাস সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং শর্ত মানলে আলোচনায় অগ্রগতি হবে বলে তারা জানিয়েছে।

আবু উবাইদা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইসরায়েল পুরোপুরি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। এর জন্য মধ্যস্থতাকারীদের আগেই জানানো হয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি অমার্জিতভাবে উত্থাপন করা গ্রহণযোগ্য হবে না।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার গাজা পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসের অস্ত্র সমর্পণের দাবিটি এই পরিস্থিতিতে বড় এক বাধা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, হয়তো এই পরিকল্পনাকে তাঁরা অস্বীকার করছেন বা এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না।

গত অক্টোবর থেকে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তার মধ্যে ৭২,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১.৭২ লক্ষ মানুষ।

আবু উবাইদা বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধ, ইসরায়েলকে প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধ্য করতে হবে, অন্যথায় কোনো অগ্রগতি হবে না। তিনি লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ১,৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে, এবং এক মিলিয়নের বেশি মানুষ ঘরছাড়া। তিনি ইরান, হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথিদের প্রশংসা করে বলেন, তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের জন্য পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনও তিনি নিন্দা করেছেন। পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা যেন নিজেদের মুক্তিপণের জন্য এগিয়ে আসে এবং বন্দিদের মুক্তির জন্য চেষ্টা চালায়, এ আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *