123 Main Street, New York, NY 10001

সম্প্রতি শেষ হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে শিরোপা জয়জয়কার করতে একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নায়ক ছিলেন ডেকলান সুলিভান। এই টুর্নামেন্টে মূলত তার বড় ভাই, রোনান সুলিভান, জিল্লা জড়িয়ে থাকলেও অনূর্ধ্ব-২০ দলের আড়ালে থেকে তিনি নিজেকে একজন পরিপক্ব একজন খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করেছেন। আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা এই তরুণ ডিফেন্ডার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের জন্য আসার আগে প্রথমে ডাগআউটে বেশ কিছু ম্যাচ কাটিয়েছেন। মোট চার ম্যাচে তিনি সম্পূর্ণ এক অর্ধের মতো খেলার সুযোগ পাননি। তবে এ নিয়ে তিনি কোনো আক্ষেপ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেননি বরং দলের সাফল্যকে নিজের সবাই শীর্ষে তুলে ধরেছেন।

টিুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেকলানের জন্য মাঠের লড়াইটি ছিল বেশ সংক্ষিপ্ত। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি খেলেননি, তবে সেমিফাইনালে 87তম মিনিটে এবং ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে 63তম মিনিটে তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। এই সময়ে তার ভাই রোনান প্রতিটি ম্যাচে দলের মূল ভরসা ভেঙে, দাপট দেখিয়ে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যেখানে ডেকলানের উপস্থিতি ছিল অল্প। তবে এই স্বল্প সুযোগ নিয়ে তিনি অত্যন্ত পেশাদারী ও পরিণত মন্তব্য করে বলেছেন, ফুটবল একটি দলগত খেলা এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলের একতা, সততা ও সংহতি সবসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দলের জন্য যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, তা দিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

অল্প সময়ে কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের সামর্থ্য প্রকাশ করতে তিনি জানিয়ে দিয়ে, ভাই রোনানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের বোঝাপড়ার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে এবং ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে বেশ কিছু নিখুঁত ও বুদ্ধিদীপ্ত পাস দিয়ে ভাইয়ের গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা এবং একে অপরের মুভমেন্ট, পজিশন সবই অনেকটাই স্বচ্ছ, এবং এই আন্তঃভ্রাতৃত্বই ছোট পরিসরে হলেও রোনানের গোল করার পেছনে মূল অবদান রেখেছে।

পজিশনের দিক থেকে ডেকলান মূলত একজন রাইট ব্যাক। রক্ষণভাগের দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করেন পাশাপাশি আধুনিক ফুটবলের দাবি অনুযায়ী আক্রমণে অংশ নিতে ভালোবাসেন। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে ওভারল্যাপ করে উঠতি আক্রমণে অনেক সময় দেখতে পাওয়া গেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, রক্ষণ তার মূল অগ্রাধিকার, তবে ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সমন্বিত ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তার। কোচ মার্ক কক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী যখন যেখানে সুযোগ পাওয়া গেছে, সর্বোচ্চ ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ডেকলান।

অবশ্য, অনেকেরই ধারণা, শুরুর ম্যাচগুলোতে তাকে না নামানোর কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রিয় দর্শকদের কিছু ক্ষোভ ও সমালোচনা উঠেছিল। অনেক সমর্থকেরাও প্রকাশ করেছিলেন যারা, তাদের এই ক্ষোভের আলাপে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা বেশি করে এই তরুণ ফুটবলারের জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঢাকায় ফিরে এসে ডেকলান এই আবেগ আর ভালোবাসায় অভিভূত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশীয় সমর্থকদের কাছ থেকে যে অসাধারণ ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা তাকে অভিভূত করেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম ফুটবলপ্রেমিক দেশ হিসেবে তার চোখে দেখা এই দেশের জনতা, সত্যিই তিনি কৃতজ্ঞ। খেলার জন্য কম সুযোগ পেলেও এই ইতিবাচক মনোভাব তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *