123 Main Street, New York, NY 10001

নগদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্ড ভিত্তিক লেনদেনে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, এই প্রণোদনা চলতি অর্থবছরে গ্রাহকদের জন্য ৩ শতাংশ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ২ শতাংশ হতে পারে, যা নগদ লেনদেনের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের প্রবৃদ্ধি বাড়াবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ই-কমার্সের উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য লেনদেনের সুবিধা আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এতে অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারীরা এই প্রণোদনা দিতে পারেন। পরবর্তীতে এটি অর্থ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট প্রস্তুতির অংশ হিসেবে করনীতি সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও ডিজিটাল লেনদেনকে আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।আর্থিক বিধানে কিছু পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছে, যেমন কর্পোরেট করের হার উৎসে কর ৪.১২৫ শতাংশ নির্ধারণে সুপারিশ এবং বিদেশি ও দেশি ব্যাংকের জন্য সমান ৩৭.৫ শতাংশ করহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, স্মার্ট কার্ড ও বিক্রয়কেন্দ্রের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কমানোর এবং পার্কে তৈরিকৃত পানীয়ের সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, পানীয় খাতে উচ্চ করের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, চাহিদা কমছে এবং বিনিয়োগের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। কর কমালে এই খাতে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব কৌশলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।বিজনেস সেক্টরগুলো জন্য আরও কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যেমন তৈরি পোশাকের বর্জ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সেবাকে ভ্যাট মুক্ত করা, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য অ-বাসিন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করহার কমানো।এছাড়া, বাংলাদেশ চায়নার চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আয়কর সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণের ও ১০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ওপর সারচার্জ প্রত্যাহারের প্রস্তাব উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যামও বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চালু করার ওপর জোর দিয়েছে। সব মিলিয়ে, এই প্রস্তাবগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *