123 Main Street, New York, NY 10001

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) আবারও রান তাড়ার রাজা হিসেবে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করল পাঞ্জাব কিংস। ঘরের মাঠে বিশাল ২০৯ রানের সংগ্রহ গড়ে মাত্র ৫ উইকেটের ব্যবধানে জয় অর্জন করে তারা। চেন্নাই সুপার কিংস, যারা এই ম্যাচে হেরে গেল, এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চার বছর পর প্রথমবারের মতো আসরের প্রথম দুই ম্যাচেই হারল, যা ২০২২ সালে শেষ বার হয়েছিল। অন্যদিকে, পাঞ্জাব এই ম্যাচেও ২০০ এর বেশি লক্ষ্যমাত্রা তাড়ায় বিশ্বরেকর্ড গড়ে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।

ম্যাচের শুরুতে, টস জিতে স্বাগতিক চেন্নাইকে আগে ব্যাটিং করার অনুমতি দেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। চেন্নাইয়ের হয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা বেশ কঠিন ছিল সঞ্জু স্যামসনের জন্য। রাজস্থান থেকে আসা এই তারকা দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ হন এবং মাত্র ৭ রান করে ফিরে যান। তবে ব্যাটিংয়ের দ্বিতীয় ওয়াটে, রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে জুটি গড়ে চেন্নাই বড় ধরনের উদ্ধার করে। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ, অভিনব আয়ুশ মাহাত্রের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ে দলের ভিত তৈরি করেন। মাহাত্রে ৭৩ রান করেন, যেখানে ৪৩ বলের মধ্যে ৬ ছয় ও ৫ চার হাঁকান। শেষ দিকে সরফরাজ খান ১২ বলে ৩২ এবং শিভাম দুবে অপরাজিত ৪৫ রানে দলের ইনিংস শেষ করেন। এই সংগ্রহে চেন্নাই মাত্র ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান যোগ করে। বল হাতে সফল ছিলেন বিজয়কুমার বৈশাক, যিনি দুটি উইকেট শিকার করেন।

২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে, শুরু থেকেই লড়াইয়ে রঙিন হয়ে ওঠেন পাঞ্জাবের ব্যাটাররা। বিশেষ করে ওপেনার প্রিয়াংশ আর্যের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাঞ্জাব। তিনি মাত্র ১১ বল খেলে ৩৯ রান করেন, যেখানে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান। তার আউটের পর, মিডল অর্ডারে প্রভসিমরান সিং ৩৪ বলে ৪৩ রান করে দলের হাল ধরেন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৯ বলের ইনিংসে ৫টি চার ও হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জয় কাছাকাছি নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত, শশাঙ্ক সিংয়ের ঝোড়ো ক্যামিওতে মাত্র ৮ বল হাতে রেখে পাঞ্জাব জয় নিশ্চিত করে।

এই জয়সহ, পাঞ্জাব কিংস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে নবম বার দুইশো বা তার বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয় লাভের রেকর্ড গড়ল। এই তালিকায় তারা অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যাদের এই ধরনের জয় ৭টি রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ৬ বার দুইশো বা তার বেশি লক্ষ্য তাড়া করে, পাঞ্জাব ৫ বার জয় অর্জন করেছে। যা স্পষ্ট করে দেয়, এই দ্বৈরথে তাদের বিশেষ একটা প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে, চেন্নাইয়ের এই হারের মানে নতুন করে ভাবনার জন্য জায়গা তৈরি হলো, কারণ এই শুরুতেই টানা দ্বিতীয় হার তাদের শিরোপা অভিযানকে কঠিন করে তুলতে পারে।

প্রিয়াংশ আর্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কৃত হন। তিনি মাত্র ১১ বল খেলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ভাগ্য বদলে দেন, যা দেখিয়ে দেন ছোট ইনিংসেরাও কতটা কার্যকর হতে পারে। আইপিএলের এই মরশুমে, পাঞ্জাব দুই ম্যাচে দুটিতেই জিতে টেবিলের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই দাপুটে জয় পুরো আসরকে শুরুতেই উত্তেজনায় ভরে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *