123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের জন্য এক সুখবর এসেছে। মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনেরও বেশি ডিজেল আনা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এই বিশাল জাহাজটি গত শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই চালান বাংলাদেশে এসেছে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছেন, ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের এই জাহাজটি ২৯ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। স্থানীয় শিপিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে প্রাইড শিপিং লাইনস। কোম্পানির অন্যতম কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলছেন, ওই জাহাজে ৩৪ হাজারের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছি। এর গভীরতা ও ড্রাফটের কারণে, প্রথমে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টন ডিজেল ছোট জাহাজে লাইটারিং বা খালাস করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে দুই দফায় সময় লাগবে। সব কিছু ঠিক থাকলে, আগামী রোববার জাহাজটি মূল জেটিতে, অর্থাৎ পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করবে।

জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা চলমান রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক তৎপরতা দেখাচ্ছে। এই চালানের এক দিন আগে, অর্থাৎ গত শুক্রবার, সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘ইয়ান জিং হে’ নামে আরেকটি জাহাজ ২৭,৩০০ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটিতে অবস্থান করে আংশিক খালাসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামীকাল রোববার বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই জাহাজটিরও দায়িত্বে রয়েছে প্রাইড শিপিং।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো দশম ডিজেলবাহী জাহাজ। যুদ্ধের কারণে, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় সরকার আগে থেকেই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং দ্রুত খালাস নিশ্চিত করে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব যেন সাধারণ ভোক্তাদের ওপর না পড়ে, সেজন্য পাইপলাইনে থাকা সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে নতুন চালান আনা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব জানান, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও দেশের চাহিদা বিবেচনায়, তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যেন, বাসিন্দারা দ্রুত ও ঝামেলা ছাড়া জ্বালানি খালাস করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা স্বাভাবিক থাকায় দেশের ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুদ বর্তমানে সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণত, এই নতুন চালানগুলো দেশের পরিবহন ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *