123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাব পুরো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে জরুরি ভিত্তিতে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইন যেকোনো সময় বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দেশের শিল্প-কারখানা ও অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই বিকল্প আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পিেটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন’ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয় করা হবে। পাশাপাশি কাজাখস্তানের ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকেও তেল আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত এগুচ্ছে এবং ইতিমধ্যে একটি জ্বালানি বহনকারী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা হ্রাস করতে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে অন্তত এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানান যে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে যাবেন না। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি সব সময় পরিস্থিতি মোতাবেক নজরে রয়েছে এবং সংকট বাড়লে তিনি স্পট মার্কেট থেকে তাড়াতাড়ি জ্বালানি সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের খরচ কমাতে এবং সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, এছাড়া রাত ৮টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব শপিং মল ও বিপণিবিতান বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নতুন জ্বালানি উৎসগুলো দেশের শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী সরকার। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের এই পদক্ষেপকে অর্থনীতিবিদরা সময়োপযোগী ও বিরাট উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *