123 Main Street, New York, NY 10001

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে এক অসামান্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন তারকা ব্যাটার রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করে বললেন, তিনি এখন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট থেকে অবসর নিচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তের জন্য মূলত ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় নিজের নাম না দেখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন। এছাড়া, এই চুক্তি তালিকায় জায়গা না পাওয়ার মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য নাম হলো অভিজ্ঞ ব্যাটার ডেভিড মিলারও।

ইনস্টাগ্রামে নিজ অনুভূতি প্রকাশ করে ডুসেন গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে খেলা যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্য। ডুসেন মনে করেন, দেশের জন্য প্রতিনিধিত্ব করা কেবল কোনো খেলা নয়, বরং এটি এক ধরনের মহান দায়িত্বও, যা পালনের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তা দরকার। ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথে তিনি অনেক ঝুঁকি ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তই তাঁর জন্য স্মরণীয়, বিশেষ করে যখন তিনি মাঠে 대한민국ের জয়গান গেয়েছেন।

যদিও তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন, তবুও ব্যাট-প্যাড তিনি এখনও তুলে রাখছেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার দীর্ঘদিনের দল ‘লায়ন্স’-এর হয়ে খেলতে থাকবেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ধীরে ধীরে নিজেকে কোচিং পেশায় যুক্ত করতে চান, যাতে মাঠের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তিনি দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে রূপান্তরীত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনি মোট ৭১টি ওয়ানডে, ৫৭টি টি-টোয়েন্টি ও ১৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। মিডল অর্ডারে তার নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেক জয়ে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ১৩৩ রানের ইনিংসটি দেশবাসীর মনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ডুসেন নিজেকে লড়াকু ও মার্জিত ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল। প্রোটিয়া এই তারকার এই বিদায় অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অবসান দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট অঙ্গনে এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তার চলে যাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার যে জায়গাটি ফাঁকা হবে, তা আবার নতুন প্রজন্মের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত ভক্তরা তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটের মাঠে অন্য ভূমিকায় দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *