123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাড়া ও লজিস্টিক খরচের বাড়তি প্রভাবে আন্তর্জাতিক দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দেখা যাচ্ছে। পরিবহন ব্যয়ে গণনার অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী চাহিদার ধরনে পরিবর্তন আসার ফলে রফতানিকারক দেশগুলো বর্তমানে নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও, এই সব আর্থিক ও প্রাকৃতিক ঝুঁকির মাঝেও বাজারের সামগ্রিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও লজিস্টিক খাতে অস্থিতিশীলতা মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায়, যার ফলে বীমা ও পরিবহন খরচ অনেক গুণ বেড়েছে। লম্বা পথ পাড়ি দেয়া কোম্পানিগুলোর জন্য বেশ চাপ বাড়ছে। তবে নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো ভৌগোলিক কারণে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহণে কিছুটা সুবিধা পেয়ে থাকলেও, তাদেরও বাড়তি খরচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অবশ্য, সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় খরচ বাড়ার পরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে দুগ্ধজাত পণ্যের কেনার প্রবণতা বেড়েছে। একই সময়ে, নিউজিল্যান্ডে ফেব্রুয়ারিতে দুধ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রেও দুধের উৎপাদন প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশটির গবাদিপশুর সংখ্যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকেও দুধের উৎপাদন ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্প্রতি ৪০০তম গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাহিদাও বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে ননি মুক্ত গুঁড়া দুধ, মাখন ও মোজারেলা পনিরের দাম ও চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের ঘাটতির কারণে ননি মুক্ত গুঁড়া দুধের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্বে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ার কারণে ডেইরি পণ্যের বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রফতানি বাড়লেও আয়ের দিক থেকে নিউজিল্যান্ডে কিছুটা ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। দেশের রফতানি বাড়লেও, আয়ের হার গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে, যার মূল কারণ পণ্যের দাম কম থাকা। চীনের মতো বড় আমদানিকারক দেশ তাদের আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বেড়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও ভালো মুনাফা অর্জন করছে। তবে, অস্ট্রেলিয়ার বাজারে রফতানি ও আয় দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মত, ভবিষ্যতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বাজারে অস্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। পরিবহন ও বীমা খরচ বাড়লে তা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে ভালো খবর হলো, উচ্চমূল্য সত্ত্বেও বিশ্ব বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা কমেনি, যা বাজারের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করছে। নিউজিল্যান্ডের গ্লোবাল ডেইরি কোম্পানি ফনটেরার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও দুধের দাম বাড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার খুবই সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, এবং এর উপর অর্থনৈতিক পরিবর্তনগুলোর প্রভাব দৃশ্যমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *