123 Main Street, New York, NY 10001

আশির দশকের বিশ্ববিখ্যাত ‘সুপারম্যান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকহৃদয় জয় করা

প্রখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন আর নেই। গত ২৩ মার্চ সোমবার সকালে

ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও

পারকিনসন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্মাতা স্টেসি সাউদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক

শোকবার্তায় সাউদার জানিয়েছেন, ভ্যালেরি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তাঁর অসুস্থতা

মোকাবিলা করেছেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জীবনের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

বজায় ছিল।

ভ্যালেরি পেরিনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল ১৯৭৮ সালের

‘সুপারম্যান: দ্য মুভি’ এবং ১৯৮০ সালের ‘সুপারম্যান ২’। এই চলচ্চিত্রগুলোতে খলনায়ক

লেক্স লুথরের প্রেমিকা ‘ইভ টেশম্যাকার’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক

পরিচিতি লাভ করেন। তবে কেবল ব্লকবাস্টার বাণিজ্যিক ছবিতেই নয়, গম্ভীর ও শৈল্পিক

অভিনয়েও তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনি’ চলচ্চিত্রে অভিনেতা

ডাস্টিন হফম্যানের বিপরীতে তাঁর অভিনয় ছিল অনবদ্য, যার জন্য তিনি একাডেমি

অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁর অভিনয় দক্ষতা

তাঁকে হলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছিল।

ভ্যালেরির বিনোদন জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল অনেকটা নাটকীয়ভাবে। ক্যারিয়ারের শুরুতে

তিনি লাস ভেগাসে একজন ‘শো-গার্ল’ হিসেবে কাজ করতেন। এক নৈশভোজে হঠাৎ এক চলচ্চিত্র

এজেন্টের নজরে পড়াই বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে

তিনি বিনম্রভাবে স্বীকার করেছিলেন যে, অভিনেত্রী হওয়া তাঁর পূর্বপরিকল্পিত কোনো

লক্ষ্য ছিল না, বরং ভাগ্যই তাঁকে রূপালি পর্দার সামনে নিয়ে এসেছিল। ‘লেনি’ এবং

‘সুপারম্যান’ ছাড়াও তিনি ‘স্লটারহাউস-ফাইভ’, ‘দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো’ এবং ‘দ্য

ইলেকট্রিক হর্সম্যান’-এর মতো দর্শকপ্রিয় ও সমালোচিত চলচ্চিত্রে নিজের প্রতিভার

স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ভ্যালেরি পেরিন ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল এক মানুষ। তবে

ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ‘ক্যান্ট স্টপ দ্য মিউজিক’ ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ এবং

সমালোচিত হওয়ার পর তিনি কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তা সত্ত্বেও হলিউডের

নির্মাতা ও দর্শকদের কাছে তাঁর কদর কখনো কমেনি। জীবনের শেষ দিনগুলোতে পারকিনসন

রোগের কারণে শারীরিক সক্ষমতা হারালেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অমলিন। তাঁর শেষ বিদায়ে

প্রয়োজনীয় সম্মান ও ব্যয়ভার বহনের জন্য তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল বা

‘গোফান্ডমি’ পেজও চালু করেছেন। ভ্যালেরি পেরিনের প্রয়াণে হলিউডের একটি গৌরবময়

অধ্যায়ের অবসান ঘটল, তবে তাঁর অনবদ্য কাজগুলো চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল

হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *