123 Main Street, New York, NY 10001

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সাফল্য, বিশেষ করে সাফ

ফুটসালের অভিষেক আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর এবার ঘরোয়া ফুটবলে বড়

পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দীর্ঘ ১৬ বছরের খরা

কাটিয়ে বাফুফের ফুটসাল কমিটি আবারও ঘরোয়া পর্যায়ে ফুটসাল লিগ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক

ঘোষণা দিয়েছে। এবারের আসরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, সাবিনা খাতুনদের মতো নারী

ফুটবলারদের জন্য প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ফুটসাল লিগের দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

দেশের ফুটসালে সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক আসর বসেছিল ২০০৮ সালে। সে সময় প্রিমিয়ার

লিগের ক্লাবগুলোকে নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর

গত দেড় দশকে আর এই খেলাটি ঘরোয়া পর্যায়ে মাঠে গড়ায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ

নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও দেশের ভেতরে কোনো কাঠামো না থাকায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির

পথ অনেকটাই রুদ্ধ ছিল। এই স্থবিরতা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত সাফল্য

ধরে রাখতে বাফুফে নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগের জন্যই নতুন করে লিগ আয়োজনের বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ করেছে।

এবারের লিগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোর জন্য বেশ কিছু কঠোর ও নতুন শর্ত আরোপ

করেছে বাফুফে। বাফুফের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ক্লাব এই লিগে অংশ নিতে আগ্রহী,

তাদের জন্য নারী ও পুরুষ উভয় দল গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ক্লাব

চাইলেই কেবল এক বিভাগে অংশ নিতে পারবে না। এর পাশাপাশি দলগুলোকে আগামী অন্তত দুই

মৌসুম নিয়মিতভাবে এই লিগে খেলার লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। ফুটবলারদের নিরাপত্তা

ও লিগের মান নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে ৫ লাখ টাকা গ্যারান্টি মানি

হিসেবে বাফুফের অনুকূলে পে-অর্ডার করতে হবে, যা লিগের নিয়ম ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে

পরবর্তীতে ফেরতযোগ্য।

দলের নামকরণের ক্ষেত্রেও বাফুফে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো

হয়েছে, কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে দল গঠন করতে হলে সংশ্লিষ্ট

ট্রাস্টি বোর্ড বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পত্র জমা দিতে হবে।

বাফুফের ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি আগ্রহী দলগুলোর আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে

পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগামী ২ মে

থেকে এই ফুটসাল লিগ শুরু করার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাফুফের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে

নারী ফুটবলাররা যখন আন্তর্জাতিক ফুটসালে দাপট দেখাচ্ছেন, তখন ঘরোয়া লিগের এই ঘোষণা

তাদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ঘরোয়া ফুটবলে নির্ধারিত সময়ে

খেলা শুরু না হওয়ার যে দীর্ঘ সংস্কৃতি রয়েছে, তার মাঝে ২ মে ফুটবল মাঠে গড়ায় কি না,

তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে কিছুটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাব

আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন না জানালেও, বাফুফে আশা করছে বড় ক্লাবগুলো দ্রুতই তাদের দল

গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদনের আওতায় আসবে। সব মিলিয়ে মে মাসেই ফুটসালের এক

নতুন উন্মাদনা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের ফুটবল ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *