123 Main Street, New York, NY 10001

সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের আমলে খেলোয়াড় দলবদলে আর্থিক অনিয়ম ও ‘গোপন পেমেন্ট’

প্রদানের দায়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শক্তিশালী

ক্লাব চেলসি। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ক্লাবটিকে রেকর্ড ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা করার

পাশাপাশি দুই বছরের জন্য একটি স্থগিত ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মূলত ২০১১

থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে খেলোয়াড় কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্লাবের পক্ষ থেকে

নিবন্ধনহীন এজেন্ট ও তৃতীয় পক্ষকে অর্থ প্রদানের প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর ব্যবস্থা

নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এডেন হ্যাজার্ড, স্যামুয়েল ইতো, উইলিয়ান, রামিরেজ

এবং ডেভিড লুইজের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের দলবদলের সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৪

কোটি ৭০ লক্ষ পাউন্ড গোপন অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা এটিও

স্পষ্ট করেছে যে, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির পেছনে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা তৎকালীন কোচদের

কোনো ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা পাওয়া যায়নি। চেলসির বর্তমান মালিক টড বোহলি ২০২২ সালে

ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণের পর অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে এই অসংগতিগুলো খুঁজে পান এবং

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বেচ্ছায় প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে সব তথ্য রিপোর্ট

করেন।

চেলসি কর্তৃপক্ষ তদন্তে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা করায় এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় বড়

ধরনের শাস্তি থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছে তারা। বিশেষ করে লিগ টেবিল থেকে পয়েন্ট

কাটার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে জরিমানার অংকটি ২ কোটি পাউন্ড থেকে কমিয়ে ১ কোটি

পাউন্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে মূল দলের জন্য ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞাটি আপাতত স্থগিত

রাখা হলেও ক্লাবের একাডেমির ওপর তাৎক্ষণিক ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০১৯

থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একাডেমি খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে এই নিষেধাজ্ঞার

পাশাপাশি ক্লাবকে আরও ৭ লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হবে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে চেলসি ক্লাব থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে

জানানো হয়েছে যে, তারা শুরু থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ

করেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নিয়ম মেনে চলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে

তারা সমস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে। চেলসি ভক্তদের

জন্য এটি একটি দুশ্চিন্তার বিষয় হলেও পয়েন্ট কাটা না যাওয়ায় ক্লাবটির আগামী দিনের

লড়াইয়ে অন্তত মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করছেন ফুটবল

বিশ্লেষকরা। তবে একাডেমির ওপর আসা এই নিষেধাজ্ঞা ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পাইপলাইন তৈরির

ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *