123 Main Street, New York, NY 10001

আজ বৃহস্পতিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশন ২০২৬ সালের জন্য এটি প্রথম, যাতে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। বেলা ১১টায় এই অধিবেশন শুরু হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্য দেবেন। একই দিন সংসদে স্পিকার, উপনেতা এবং ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেইসাথে, যারা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্বে আছেন, জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্যও নির্ধারণ হবে এ অধিবেশনে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য একটি সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা ঠিক করা হবে। প্রথম দিনের বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান দায়িত্ব হবে সেই সমস্ত অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা, যেগুলো সরকার সংসদে উপস্থাপন করতে চায়। আবার, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন, যার জন্য রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন। প্রথম দিন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার স্বাভাবিকভাবে প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন, কিন্তু এবারের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম হতে পারে, কারণ গত সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পরে দেখা যায়নি। তিনি পদত্যাগ করেছেন, ও শামসুল হক (টুকু) কারাগারে রয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন, যা সংসদে স্বাগত জানানো হবে। এরপর দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় উন্নয়নের জন্য সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন হবে। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের সংসদ গঠনের পর হিসাব অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, এর মধ্যে বিএনপি একাই ২০৯টি আসন নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই ৬৮টি। নির্বাচিত ২৯৬ জন সদস্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, এই সংসদে সকল দলের প্রধান এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে বেশিরভাগই নতুন। এটি বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে কার্যকর থাকবে, অর্থাৎ ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে, আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকররা মনে করছেন, প্রথমবারের মতো এই সংসদের কাজের ধরণ বুঝতে সময় লাগতে পারে, কারণ অনেক নবীন সংসদ সদস্যের কার্যপ্রণালি ও বিধি সম্পর্কে ধারণা কম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন মনে করেন, ‘পুরানো সদস্যদের অনেকেরই কার্যপ্রণালি সম্পর্কে ধারণা নেই, ফলে এই সংসদে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *