123 Main Street, New York, NY 10001

ওপার বাংলার চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের অন্যতম পরিচিত মুখ, বরেণ্য অভিনেতা তমাল

রায়চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোররাতে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ

নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে টলিউড এবং নাট্যপাড়ায় গভীর শোকের

ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মঞ্চ এবং রুপালি পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয়

করা এই অভিনেতার প্রস্থানকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তাঁর

সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস থাকলেও আজ সকালে

দেরি হওয়ায় পরিচারিকা তাঁকে ডাকতে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে

সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় অভিনেতা দেবদূত ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই শোকবার্তাটি প্রচার

করেন। তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী কোনো প্রকার শারীরিক

কষ্ট ছাড়াই ঘুমের মধ্যে চিরতরে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন তমাল রায়চৌধুরী। তাঁর

শারীরিক অসুস্থতা এতটাই ছিল যে হার্টে পেসমেকারও বসাতে হয়েছিল। মূলত এই শারীরিক

প্রতিকূলতার কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয় জগত থেকে তিনি অনেকটা দূরে সরে

ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হার্ট ফেইলর বা

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া।

অভিনয় জীবনে তমাল রায়চৌধুরী অসংখ্য কালজয়ী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজ চক্রবর্তী

পরিচালিত ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে শুরু করে ‘চ্যালেঞ্জ’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের

‘জাতিস্মর’, এবং নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রামধনু’ সিনেমায় তাঁর অভিনয়

দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘অ্যামাজন অভিযান’-এর

মতো ব্লকবাস্টার ছবিতেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। বড় পর্দায় তাঁকে সর্বশেষ

দেখা গিয়েছিল তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ফ্যান্টাসি ফিল্ম ‘ভটভটি’-তে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টায় অভিনেতার মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য

কলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে চলচ্চিত্র জগতের সকল কলাকুশলী

ও ভক্তরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন

হওয়ার কথা রয়েছে। বিনয়ী স্বভাব আর অভিনয়ের অসামান্য দক্ষতা দিয়ে তিনি যে

উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তা চিরকাল বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *