123 Main Street, New York, NY 10001

বর্তমান সময়ে ভারতীয় সংগীতের আঙিনায় একক আধিপত্য বজায় রাখছেন মেলোডি কুইনখ্যাত

গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। কেবল কণ্ঠের জাদুই নয়, বরং আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক নিয়ে এখন

আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন আর্থিক ও বিনোদন ভিত্তিক প্রতিবেদনের

তথ্য অনুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষাল এখন প্রতিটি গান রেকর্ডিংয়ের জন্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ রুপি

পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার নারী

সংগীতশিল্পীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানী পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর্থিক বিবেচনায়

ভারতের সংগীত জগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের ঠিক পরেই এখন তাঁর

অবস্থান, আর নারী শিল্পীদের তালিকায় সুনিধি চৌহানকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল

করে আছেন।

শ্রেয়ার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত সাদামাটাভাবে। মাত্র ১৬ বছর

বয়সে রিয়ালিটি শো ‘সারেগামাপা’-তে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে সংগীতে তাঁর

যাত্রা শুরু। সেখানে তাঁর অসামান্য মেধা দেখে মুগ্ধ হন খ্যাতিমান নির্মাতা সঞ্জয়

লীলা বানসালি। পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরেই ‘দেবদাস’ সিনেমার গানে প্লেব্যাক করার

সুবর্ণ সুযোগ পান এবং রাতারাতি ভারতসহ পুরো বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের প্রিয় মুখ হয়ে

ওঠেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি বাংলা, হিন্দি ও দক্ষিণ

ভারতীয় ভাষাসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ৩ হাজারেরও বেশি গান উপহার দিয়েছেন। প্লেব্যাক

শিল্পী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নির্মাতা ও সংগীত

পরিচালকদের প্রধান পছন্দের নাম এখন শ্রেয়া ঘোষাল।

চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বড় বড় কনসার্ট বা স্টেজ শো এবং জনপ্রিয় সব

রিয়ালিটি শো-তে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেও বিপুল অংকের অর্থ উপার্জন করেন এই

তারকা। তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল হিসেবে বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে

প্রায় ২৪০ কোটি রুপি। যাপনের ক্ষেত্রেও আভিজাত্যের ছাপ রেখেছেন শ্রেয়া। ভারতের

প্রধান দুই বাণিজ্যিক শহর মুম্বাই ও কলকাতায় তাঁর নিজস্ব বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ি

রয়েছে। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও রেঞ্জ রোভার

স্পোর্টের মতো বিশ্বের নামী দামী সব ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি।

পেশাগত জীবনে আকাশচুম্বী সফলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সুখী একজন মানুষ শ্রেয়া।

২০১৫ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের বাল্যবন্ধু শিলাদিত্য সান্যালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ

হন তিনি। তাঁদের সুখী দাম্পত্যে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। নিজের কর্মনিষ্ঠা আর

শৃঙ্খলার মাধ্যমে একজন উঠতি কিশোরী গায়িকা থেকে যেভাবে নিজেকে বর্তমান সময়ের

সর্বোচ্চ সম্পদশালী ও জনপ্রিয় নারীতে পরিণত করেছেন, তা নবীন শিল্পীদের কাছে বড় এক

অনুপ্রেরণা। উপমহাদেশীয় সংগীতে শ্রেয়া ঘোষাল কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ

প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন বললেও ভুল হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *