123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট এবং strategically গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বন্ধ হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এর ফলে দেশটিতে তেলের তীব্র shortage হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কিছু দিন ধরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিজয় সরণি, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যেখানে কয়েক কিলোমিটার দুরত্বে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক পাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।

প্রতক্ষ্য-দর্শীরা জানিয়েছে, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত বিভিন্ন লাইনে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সরাসরি দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেক চালক তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আশিকুজ্জামান চয়ন নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেছেন, তিনি দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে শুধু ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্য একজন রাব্বি বলেন, গুজব রয়েছে যে তেল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই এই ভিড়ে দাঁড়াতে হয়েছে, কারণ তেল না থাকলে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন।

এই অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নতুন রেশনিং নিয়ম চালু করে। এর অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার ও একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া, জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২৫ লিটার, পিকআপের জন্য ৮০ লিটার এবং বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা মূলত তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে এবং সবার মধ্যে সুষম বিতরণ নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আপাতত দেশের বাজারে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে দ্বিগুণের বেশি দামে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণের কাছে আস্তে আস্তে আহ্বান জানিয়েছেন, অপরিহার্যভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ না করে বাজার অস্থির করবেন না। বিপিসি জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতেও মূল্যবৃদ্ধির কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসন সব সময় নজরদারি চালাচ্ছে যাতে গুজব না ছড়ায় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। মোট কথা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সৃষ্টি হওয়া এই জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *