123 Main Street, New York, NY 10001

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা গত ডিসেম্বরেই ঘোষণা করে পরিমাণগতভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কার অর্থের প্রস্তাব। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনের এই মহাযজ্ঞে ৪৮টি দল অংশ নিবে, এবং মোট ৭২৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে এই বিপুল বরাদ্দের মধ্যেও ইউরোপীয় দেশগুলো তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে, যা নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসি ও পিএমিডিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে জানা গেছে, দল সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আনুষ্ঠানিক অর্থের অঙ্কে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে, প্রস্তুতি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় অন্তত ১০টি ইউরোপীয় দেশ এই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে ফিফার বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

প্রতিটি দলের জন্য অংশগ্রহণের জন্য ৯ মিলিয়ন ডলার, এবং প্রশিক্ষণের জন্য ১.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকছে। অর্থাৎ, কোনও দল যদি গ্রুপ পর্বে হেরে যায় বা কোনো ম্যাচ না জেতেও যায়, সে অন্তত ১০.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সমান। তবে এই বছর ফিফা দলের জন্য দৈনিক ভাতার পরিমাণ থেকে ৮৫০ ডলার থেকে কামিয়ে ৬০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। ফলে, সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত খেললে গতবারের থেকে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার কম আয় হবে।

অতিরিক্তভাবে, মুদ্রার বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে ডলারের বিপরীতে প্রকৃত আয় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা গেছে। বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিশাল ভৌগোলিক क्षेत्रोंে যাতায়াত ও আবাসনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের উচ্চ করের জন্য আয় বাড়ার বদলে অর্থের বোঝা বাড়ছে।

ইউরোপের বেশ কিছু ফুটবল ফেডারেশন এই তদারকিতে নিরীক্ষা করে দেখেছে যে, ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে দলগুলোর লাভ-লোকসানে বড় প্রভাব পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে, গ্রুপ পর্বে পতন ঘটে যাওয়া দেশগুলোও এই মহাযজ্ঞের পর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *