123 Main Street, New York, NY 10001

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আফগানিস্তানের সীমান্তে এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তালেবান পক্ষের ২২৮ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবানের দাবি—পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে ৫৫ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এই তথ্য জানায়।

আফগাজি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ৩১৪ জন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছেন। শক্তিশালী আক্রমণে তালেবানরা আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে ৭৪টি নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস করে। পাশাপাশি, পাকিস্তান সেনারা ১৮টি চৌকি দখল করে নিয়েছেন।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক পোস্টের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান পরিচালনা হয়। সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্বে থাকা অভিযানে তাদের অনুসারে, পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে। তার পাশাপাশি, আফগান সেনারা অনেক হালকা ও ভারী অস্ত্র জব্দ করেছে এবং কিছু সেনাকে জীবিত আটকও করেছে।

আফগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই অভিযানে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের দুটি সদরদপ্তর ও ১৯টি চেকপোস্ট দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে, এই সংঘর্ষে আফগান সেনাদের ৮জন নিহত এবং ১১জন আহত হয়েছেন। এরই মধ্যে, আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবে তারা এই অভিযান চালিয়েছে।

সীমান্তে গোলাগুলি ও শব্দের ঝটাপট

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থল সীমান্তের এক গুরুত্বপূর্ণ পোর্ট তোরখাম ক্রসিংয়ে গুলি ও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে, বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। তোরখাম ক্রসিংটি নানগারহার ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মধ্যে, যেখানে দুই দেশের বাসিন্দাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। অক্টোবরের পর থেকে এই সীমান্তে বেশিরভাগ সময় সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেছে, তবে এই ক্রসিংটি এখনও খোলা রয়েছে।

অফিসিয়ালরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে অনেক নাগরিক এই পথটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে ফেরার চেষ্টা করছেন। উত্তেজনার কারণে তাদের মানসিক চাপ বেড়েছে, জীবনযাত্রার অবনতি ঘটছে। একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে এই এলাকায় চালানো হামলায় কয়েকজন শরণার্থী আহত হয়েছেন, তার মধ্যে একজন গুরুতর। তারা দেখেছেন রক্ত, আহত শিশু ও নারীদের। কিছু মানুষ দ্রুত ওষুধ ও খাবার সংগ্রহ করে পালিয়ে যান।

আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, যখন ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট) ইউরোপ শাখা জানিয়েছে, পাকিস্তানের চালানো ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানের মাধ্যমে তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন।

ওসিন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টায় কেবল শহরের অদূরে, কাবুলের সদর দপ্তরে পাকিস্তানি বিমান হামলায় এই বড় নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে, তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানের দাবি, তাদের এই হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান আবার ক্ষমতা গ্রহণের পর, হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এক শীর্ষনেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নির্দেশে তালেবান সরকার কাজ চালাচ্ছে।

পাকিস্তানে হামলা ও উত্তেজনা বাড়ছে

পাকিস্তানের তিন শহরে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, কোনো জানমালের ক্ষতি হয়নি। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার জানান, আফগানিস্তান থেকে অ্যাবোটাবাদ, সোয়ाबी ও নোসরাতে ড্রোন ঢুকেছিল।

এছাড়াও, কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, তারা এই হামলা চালিয়েছে Pakistant এর আকাশসীমায় পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে।

উত্তেজনা আরও বাড়ার পর, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। কাবুলের দাশতি বারচি এলাকায় একজন বাসিন্দা বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রচণ্ড বিস্ফোরণে তার বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প, কিন্তু পরে বুঝতে পারা গেছে, এটি পাকিস্তানের সামরিক বিমানগুলো ছিল। তিনি আরও বলেন, এরপর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সবাই ভয় পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং রাত জেগে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *