123 Main Street, New York, NY 10001

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল আকারের সামরিক অপারেশন শুরু করেছে, যেখানে ৩০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রস্তুতি একদিকে সম্ভাব্য ইরানীয় হামলার মোকাবেলায় এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব বিস্তারের জন্য বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল সামরিক হাসিলের নেতৃত্বে রয়েছে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং সমুদ্র তীরে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’। এই সব স্থানে একত্রিত হয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যা পূর্ব ইরানে সম্ভাব্য হামলা বা আঘাত মোকাবেলায় প্রস্তুত।

অতিরিক্তভাবে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে, গত জানুয়ারির শুরু থেকে তারা আনুমানিক ২৭০টি সি-১৭ ও সি-৫ লজিস্টিক বিমান পরিচালনা করছে। এই ফ্লাইটগুলো মাধ্যমে নানা ধরণের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রবেশ করানো হয়েছে।

বিশেষ করে, এই বিমান বহরে এখন ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান যেমন এফ-১৮, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ রয়েছে, যার মাধ্যমে আকাশে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মার্কিন সেনা। এছাড়াও রয়েছে ট্যাঙ্কার বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানের মতো সহায়ক যানবাহন। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় জুনে চালানো অপারেশন মিডনাইট হ্যামারেও বি-২ বোমারু বিমানের বিশেষ কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের গোপন প্রস্তুতিও ভাঁজে রেখেছেন বিশ্লেষকরা। তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে সিল জানিয়ে রেখেছে। এর পাশাপাশি, তারা আরও ১২টি মার্কিন স্টিলথ ফাইটার, এফ-২২, যা বিশ্বের অন্যতম উন্নত বিমান, সংগ্রহ করেছে। এই বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, আগামীর দিনগুলোতে ইরানের মিসাইলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশের লক্ষ্য আঘাতের আশঙ্কা থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক অবস্থা বজায় রাখতে চান বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কূটনীতিক পথেই সমাধান খুঁজছি, কিন্তু কোনভাবেই ইরানের পরমাণু ক্ষমতা দখলের অনুমতি দেব না।” তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, “ইরান ইতোমধ্যে এমন মিসাইল তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে তারা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানতে সক্ষম। এখন তারা এমন মিসাইল তৈরি করছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।”

তবে, ইরান এই বিষয়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে, আজকের দিনগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *