123 Main Street, New York, NY 10001

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সাঞ্জাই তাকাইচি সম্প্রতি বেশ ঝামেলার মধ্যে পড়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল বড় জয় পেলেও, সেই জয়ের খুশি ঠিকঠাকভাবে উদ্‌যাপন করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন বিতর্কের শিকার হন। নির্বাচনের পর, তিনি তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে উপহার বিতরণ করেন। এই ঘটনা খুব দ্রুত সংবাদমাধ্যমে কাজ করে উঠে আসে এবং তারজন্য তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হন।

তাকাইচি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, তিনি ৩০০ এর বেশি আইনপ্রণেতাকে একটি ক্যাটালগ থেকে তাদের পছন্দের উপহার বেছে নেয়ার অনুমতি দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা নির্বাচনের ফলাফল এবং সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উপহার কেবল ব্যক্তিগত মুদ্রায় নয়, বরং দলীয় তহবিলের অর্থে দেওয়া হয়েছে, যাতে করদাতাদের টাকা ব্যবহার হয়নি।

এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি জাপানের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২৩ সালের এলডিপি তহবিল কেলেঙ্কারির স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পদত্যাগে مجبور হন। এর আগের বছর, প্রধান বিরোধী দল জোটে জোটের নেত্রী শিগেরু ইশিবার জোট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।

প্রতিনিধি দলের নেত্রী জুনিয়া ওগাওয়া বলেন, ‘‘এমন ঘটনা মানুষের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে—প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, আপনি কি আসলেই এই ধরনের উপহার গ্রহণ করেছেন?’’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এর বিষয়ে কঠোরভাবে জবাবদিহি করতে হবে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে তাকাইচি জানান, এই উপহারগুলো প্রতিটি পুরোপুরি মূল্য, পরিবহন খরচ ও করসহ প্রায় ৩০ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৯০ ডলার) দামে বিক্রয় করা হয়েছে। তিনি বললেন, এই টাকা তাঁর নিজের নারা প্রদেশের এলডিপির শাখার রাজনৈতিক তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর মতে, এই উপহার আইন অনুযায়ী বৈধ, কারণ ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি অনুদান দেওয়া সম্ভব নয়, তবে রাজনৈতিক দল বা তাদের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে এ ধরনের অর্থ সহায়তা দেওয়া যথাযথ।

উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে গত মার্চে শিগেরু ইশিবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে যে, তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থে ১৫ জন নবনির্বাচিত নিম্নকক্ষের সদস্যকে ১ লাখ ইয়েন মূল্যের উপহার সরাসরি দিয়েছেন। এই ঘটনাগুলি রাজনৈতিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে নতুন প্রশ্ন তোলে, যা জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছুদিনের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *