123 Main Street, New York, NY 10001

সম্প্রতি, রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ অনেকটাই ঠেকে গেছে, তবে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আন্দোলনের নতুন ঢেউ তার শুরু করে দিয়েছে। দেশটির কিছু শীর্ষ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণ পর্যায়ের প্রতিবাদকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগানে তুলনামূলকভাবে জোড়ালো বিক্ষোভ চালাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। মনে রাখা দরকার, এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানুয়ারির শুরুতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে। সেই সময়, এই ক্ষোভকে দমাতে খামেনি প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে শীতল হলেও, পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসে ফিরতেই ক্ষোভের মার্মুখে ঘনীভূত হয়েছে। জানুয়ারির সহিংস দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নিহতদের স্মরণসভা হিসেবে এই আন্দোলন আরও কঠোর হয়ে উঠছে। তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ ও সমাবেশের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে কিছু সময় সরকারপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষও হয়েছে।

বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন এক দিক লক্ষ্যণীয়—প্রতিবাদে ইরানের উত্তাকার হিসেবে উঠে এসেছে প্রিন্স রেজা শাহ পাহলভীর নাম, যিনি দীর্ঘ দিন নির্বাসিত। তার নাম উচ্চারিত হয়েছে স্লোগানে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রায় পাঁচ দশক পর সম্প্রতি আবার রাজার দাবি ও রাজতন্ত্র পুনর্বহালের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রতিবাদীরা এমন স্লোগান দিতে দেখা গেছে—‘এই ফুল ঝরে গেছে, মাতৃভূমির জন্য উপহার’, ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’, ও ‘সহযোদ্ধাদের রক্তের শপথ, শেষ পর্যন্ত লড়ব’। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ চলছে। সরকারপন্থিরা বেশ কিছু সময় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘আল্লাহু আকবর’ ও ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ঘোষণা করছেন, এবং দাঙ্গা-বিগ্রহকারী প্রকৃতি ও ষড়যন্ত্রকারীদের বহিষ্কার দাবি করে চলেছেন।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুরূপ স্থানে শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্বের ছাত্র মোহাম্মদ রেজা মোহাম্মদির স্মরণসভাও করেছে। ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ নামে এক সংগঠনের অভিযোগ, বাসিজ ছাত্রসংঘঠন এই অনুষ্ঠানটি নিজের অধিকার বলে দাবি করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, এবং তারা বলছে নিহত ছাত্রটি সরকারপন্থী ছিল।

অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী বিপ্লব পূর্বের সিংহের সূর্যচিহ্নযুক্ত পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন এবং ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত নাম সরাসরি পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন।

ইরানে ২০০০ সালে একটি বিশেষ আইন পাশ হয়, যেখানে বলা হয়, অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সামরিক, পুলিশ বা অন্য কোনও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ বা অভিযান সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য। ১৯৯৯ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে আক্রমণের পর এই আইন প্রণয়ন হয়। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলির একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রেই এই আইনের ব্যত্যয় করে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ছে। এটি ইরানের শিক্ষার্থী ও ছাত্রসমাজে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *