আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, শহীদইনুদ্দীন মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দীন স্মৃতি ও গৌরবের অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য হলো “বহুমাত্রিক বাংলাদেশ”, যা দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই শুভ উদ্বোধন করবেন।
মেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা। তিনি বলেন, এই বার মেলার প্রধান লক্ষ্য হলো জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বই ও বইমেলা এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করে, যা দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মূল্যবান জ্ঞান ও সংস্কৃতি নতুন করে উপস্থাপন করবে।
এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৪৯টি, যার মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে থাকছে ৮১টি স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে রয়েছে ৪৬৮টি স্টল। মোট ইউনিটের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি, যা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে, লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি লিটলম্যাগের জন্য স্টল বরাদ্দ হয়েছে, আর শিশুচত্বরের জন্য মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে।
বইমেলার বিন্যাস ও সজ্জায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেমন মেট্রোরেলের ট্র্যাকের কারণে এক বা দুটি প্রবেশদ্বার স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেলার বিভিন্ন প্রবেশ ও বাহির পথের ব্যবস্থা, খাবার স্টল, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। মোটর রেল ও গণপরিবহন সুবিধার জন্য অঙ্গিকগতি ও পর্যাপ্ত আলো আলোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার বিশাল জাল থাকবে, যাতে পুরো মেলা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পলিথিন ও ধূমপান নিষিদ্ধ থাকবে, পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন করা হবে।
এই বছরের বিশেষ আকর্ষণ হলো বিভিন্ন পুরস্কার, যার মধ্যে রয়েছে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মেুন্নীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার, কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, এবং নতুন প্রবর্তিত সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার। সব পুরস্কার গুণগত মান ও শিল্পমান দিক দিয়ে বিচার হবে।
বইমেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ছুটির দিনগুলোতে সময়সূচী কিছুটা পরিবর্তিত হবে। এবারের মেলার একটি বিশেষ লক্ষ্য হলো পরিবেশ-সচেতন ও জিরো ওয়েস্ট অঙ্গনে রূপান্তর। পাট, কাগজ ও পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, বাংলা লিমিটেড এই মেলার ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, যার মাধ্যমে সফল ও সুন্দর এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। সাহিত্যের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও প্রবেশাধিকার থাকবে, যেখানে বিস্তর আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।